কাঠের বাক্স খুলতেই সর্বনাশ! উইপোকার পেটে গেল কৃষকের ২ লাখ টাকার সঞ্চয়

0

লোকসমাজ ডেস্ক: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক কৃষক পরিবারের বহু বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয় মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। কাঠের একটি বাক্সে যত্ন করে রাখা প্রায় ২ লাখ টাকা উইপোকার আক্রমণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারি গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তোফাজ্জল হোসেন জানান, পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনের সময় ব্যবহারের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমিয়ে আসছিলেন।

জানা যায়, মেয়ের জামাইয়ের দেওয়া ৫০ হাজার টাকা, নিজের সঞ্চয় এবং জমি বন্ধক রেখে পাওয়া অর্থ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা একটি কাঠের বাক্সে সংরক্ষণ করেছিলেন তিনি। ব্যাংকে না রেখে ঘরেই নিরাপদ মনে করে বাক্সে রাখা হয়েছিল টাকাগুলো।

কিন্তু সম্প্রতি প্রয়োজনের কারণে বাক্স খুলে টাকা বের করতে গিয়ে চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভয়ঙ্কর দৃশ্য। এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলগুলো উইপোকায় কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। অনেক নোটের শুধু অংশবিশেষ অবশিষ্ট ছিল, অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

নিজের চোখের সামনে কষ্টের সঞ্চয় এভাবে ধ্বংস হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তোফাজ্জল হোসেন। তার স্ত্রীও শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “অনেক কষ্ট করে টাকাগুলো জমিয়েছিলাম। মেয়েদের ভবিষ্যৎ আর সংসারের প্রয়োজনের কথা ভেবে রেখে দিয়েছিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেল। কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠব, বুঝতে পারছি না।”

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি আর্থিকভাবে খুব বেশি সচ্ছল নয়। দীর্ঘদিনের শ্রম আর ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা সঞ্চয় হারিয়ে তারা এখন গভীর সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিবারটির মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। তাদের মতে, এই ক্ষতি শুধু অর্থের নয়, এটি একটি সংগ্রামী পরিবারের বহু বছরের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার গল্প।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে দীর্ঘদিন নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বা মূল্যবান নথি কাঠের বাক্স কিংবা আর্দ্র স্থানে সংরক্ষণ করলে উইপোকা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই সঞ্চিত অর্থ ব্যাংক বা নিরাপদ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা।

সুন্দরগঞ্জের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—একটি সামান্য অসাবধানতাও কখনও কখনও বহু বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয়কে মুহূর্তে ধ্বংস করে দিতে পারে।