সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী মানিক পশারীর গার্ড অব অনার নিয়ে বিতর্ক, দাফনে বাধার অভিযোগ

0
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী মানিক পশারীর গার্ড অব অনার নিয়ে বিতর্ক, দাফনে বাধার অভিযোগ
মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে মানিক পশারীর কবর খুড়ছেন দুই মেয়ে- লোকসমাজ

লোকসমাজ ডেস্ক : পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার পেতে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মরদেহ দাফনে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের এক নেতা।

পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত মানিক পশারীর মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে পারিবারিক বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্থানীয়দের বাধার কারণে সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, মরদেহ নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গেলে গার্ড অব অনারের জন্য তাঁদের বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় মরদেহটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে কয়েক ঘণ্টা রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। দাফনের বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে মানিক পশারীকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছিল। তবে তাঁর মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদান বা দাফনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় কিছু মানুষ বা উৎসুক জনতা বাধা দিয়ে থাকতে পারেন।

মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।