কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদের সাঁকো ভেঙে দুর্ভোগে অর্ধলক্ষ মানুষ

0

স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর), লোকসমাজ : যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। সাঁকোটি ছিল স্থানীয়দের যাতায়াতের একমাত্র সহজ মাধ্যম। ফলে বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। স্থানীয়রা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির উদ্যোগে এবং দুই পাড়ের মানুষের আর্থিক সহযোগিতা ও বাঁশ সংগ্রহের মাধ্যমে কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। সাগরদাঁড়ি বাজারের সঙ্গে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া ও তালা উপজেলার মানুষের যোগাযোগের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

সাঁকোটি ব্যবহার করে নদীর ওপারের শার্শা, সানতলা, কৃষ্ণনগর, পাঁচপাড়া, সেনেরগাতী, সারুলিয়া, ধানদিয়া ও জয়নগরসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এবং এপারের সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর ও রেজাকাটিসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের বাসিন্দারা নিয়মিত যাতায়াত করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, কেনাকাটা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সাগরদাঁড়ি বাজার।

২০২৪ সালের শেষ দিকে পুরোনো বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেলে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকা সরকারি সহায়তা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে গত শনিবার রাতে কাঠের সাঁকোটিও ভেঙে পড়ে।

সাঁকোর মাথা এলাকার বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সাগরদাঁড়ি বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক সাগরদাঁড়িতে আসেন। তাদের অনেকেই কপোতাক্ষ নদে নৌভ্রমণ এবং সাঁকো ব্যবহার করতেন। তিনি বলেন, নতুন করে সাঁকো নির্মাণের মতো অর্থ স্থানীয়দের নেই। তাই দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, সাগরদাঁড়ি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও উপকৃত হবেন।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, “কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে। তবে আপাতত এটি সংস্কারের পরিকল্পনা নেই। সেখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে।”