যশোরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ও খাল-পুকুর দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।। ছবি: লোকসমাজ

যশোরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ও খাল-পুকুর দখলমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে যশোরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, দখল হয়ে যাওয়া নদী-খাল ও পুকুর উদ্ধার এবং পরিবেশের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে সড়ক উন্নয়নের দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জমি, নদী ও খাল দখলকারী প্রভাবশালীদের সঙ্গে যশোর জেলা বিএনপির কোনো সখ্যতা নেই। সরকার স্থানীয় প্রশাসন, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সার্বিক আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত যশোর শহরের যশোর ক্রাইস্ট চার্চ ট্রেড স্কুলের (সিসিটিএস) কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

"জমি, নদী ও খাল দখলকারী প্রভাবশালীদের সঙ্গে
জেলা বিএনপির কোনো সখ্যতা নেই;
জেলা বিএনপি কাজ করবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে।" 
— 
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

বাপা যশোর জেলা শাখার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রায় ১২০ জন প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথি অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যশোরে পরিবেশ আন্দোলনের বিভিন্ন সামাজিক প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। জেলা বিএনপি সর্বদা মানুষের কল্যাণে কাজ করবে, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করবে না।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, খাল ও নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে যশোরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যশোরের বর্তমান ভৌগোলিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যশোরের অন্যতম বড় সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে এ সমস্যা নিরসনে সুনির্দিষ্ট কাজ করা হলেও পরবর্তী ১৮ বছরে তা সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ে এই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বর্তমান সরকার বজায় রাখবে।

যশোরে বাপার সম্মেলনে জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং ৫ লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পরিবেশ বজায় রেখে সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।। ছবি: লোকসমাজ

বিশেষ করে যশোরের নবকিশলয় স্কুলসংলগ্ন পুকুর দখলমুক্ত করার পাশাপাশি জেলার অন্যান্য যেসব দখল হয়ে যাওয়া পুকুর ও খাল রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া যশোরের ঐতিহ্যবাহী বাওড়গুলোর সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যশোরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব সহকারে কাজ করবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রকৌশলী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে পরিবেশের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তা এড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন, সরকারের চলমান মেগা প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার নতুন প্রকল্পও গ্রহণ করবে।

উক্ত দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ তালুকদার। এ সময় যশোর জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।