যশোর জেনারেল হাসপাতালে ২৭৮ শয্যার বিপরীতে রোগী ৮০০, প্রকট ওষুধ সংকট

অতিরিক্ত চাপে প্রকট ওষুধ সংকট, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

0
যশোর জেনারেল হাসপাতাল
ছবি : হানিফ ডাকুয়া, লোকসমাজ

বি এম আসাদ, লোকসমাজ : সরকারি শয্যা মাত্র ২৭৮টি, অথচ চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০০। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। ওয়ার্ডের শয্যা তো দূরের কথা, বারান্দা ও মেঝেতেও রোগীদের জায়গা মিলছে না। অতিরিক্ত এই চাপের ফলে হাসপাতালজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ওষুধ সংকট।

একদিকে রোগের যন্ত্রণায় কাতর মানুষের ভিড়, অন্যদিকে স্বজন ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে হাসপাতালটি যেন জনাকীর্ণ এক মেলা প্রাঙ্গণে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধময় পরিস্থিতি। এমন পরিবেশেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার মূল হাসপাতালের সঙ্গে ২৮ শয্যাবিশিষ্ট করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) মিলিয়ে মোট শয্যা সংখ্যা ২৭৮টি। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী এখানে ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

গত ৯ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৮১ জন। একই সময়ে ৩০০ জনের বেশি রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৮৬ জন।

যশোর জেনারেল হাসপাতাল
এআই সহায়তায় গ্রাফিক্স- লোকসমাজ

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৬টি শয্যার বিপরীতে রোগী ছিলেন ১০৬ জন। মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ১৪টি শয্যার বিপরীতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৬০ জন। শিশু ওয়ার্ডে ২৪টি শয্যার বিপরীতে রোগী ছিলেন ৭০ জন। প্রায় সব ওয়ার্ডেই শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা তিন থেকে চার গুণ বেশি। ফলে অনেক রোগীকেই মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে শয্যার বাইরেও বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মানবিক কারণে মেঝেতে থাকা রোগীদেরও ওষুধ সরবরাহ করতে হয়। এতে নির্ধারিত বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ওষুধ সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।

শুধু আন্তঃবিভাগ নয়, বহির্বিভাগেও (আউটডোর) প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ততম সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে যশোর জেনারেল হাসপাতাল। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও সরবরাহের ঘাটতিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, “এই হাসপাতালের মতো রোগীর চাপ আশপাশের কোনো জেলার হাসপাতালে নেই। চিকিৎসাসেবার মান ভালো হওয়ায় অন্যান্য জেলা থেকেও রোগীরা এখানে আসেন। অথচ ওষুধ ও খাবারের বরাদ্দ মূলত যশোর জেলার চাহিদা বিবেচনায় দেওয়া হয়। ফলে বাইরের জেলার রোগীরাও সেই বরাদ্দের অংশীদার হওয়ায় ওষুধ সংকট দেখা দেয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।”