যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটে ৩৩ পদ অনুমোদন, পূর্ণাঙ্গ চালুর পথে বড় অগ্রগতি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হৃদরোগ চিকিৎসায় স্বস্তির আশা, দ্রুত শুরু হবে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ

0
যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটে ৩৩ পদ অনুমোদন

মাসুদ রানা বাবু, লোকসমাজ : যশোরের একমাত্র বিশেষায়িত হৃদরোগ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পথে আরও একধাপ এগিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালুর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩৩টি নতুন পদ সৃজনে সম্মতি দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট অচিরেই চালু হবে, ইনশাআল্লাহ।”

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সওব্য-১০ শাখা থেকে গত ১৮ আগস্ট জারি করা এক স্মারকে এ সম্মতির কথা জানানো হয়। এর আগে ৩ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্মারকে বলা হয়েছে, করোনারি কেয়ার ইউনিটের জন্য রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে ২০টি এবং সংরক্ষিত ভিত্তিতে ১৩টিসহ মোট ৩৩টি পদ সৃজনে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

সৃজিত পদগুলোর মধ্যে রয়েছে— সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ১টি, সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ১টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ২টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ১টি, সহকারী রেজিস্ট্রার ২টি, অ্যানেসথেটিস্ট ১টি, মেডিকেল অফিসার ১২টি, নার্সিং সুপারভাইজার ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) ১টি, ফার্মাসিস্ট ১টি, কম্পিউটার অপারেটর ২টি, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১টি, স্টোরকিপার ১টি, ফার্মেসি সহকারী ১টি, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১টি, টিকিট ক্লার্ক ১টি এবং রিসেপশনিস্ট ১টি।

২০০৬ সালে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলাম যশোরে হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য এই প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেন। সে সময় ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হলেও পরবর্তী সময়ে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠানটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে যশোর ও আশপাশের জেলার হৃদরোগীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা খুলনার ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমাতে পারবেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়াত বলেন, “করোনারি কেয়ার ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। ৩৩টি পদ অনুমোদন একটি বড় অগ্রগতি। আশা করছি দ্রুত যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছাবে এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই স্থাপনের কাজ শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে এ অঞ্চলের হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা বা খুলনায় যেতে হবে না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি খুলনা বিভাগের দ্বিতীয় বিশেষায়িত হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”