ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যার পর আর্থিক সংকটে পরিবার, এক দিনের বেতন দিয়ে সহায়তার সিদ্ধান্ত সহকর্মীদের

আর্থিক সহায়তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের কাছে আবেদন করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী

0
ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যার পর আর্থিক সংকটে পরিবার

ইবি সংবাদদাতা, লোকসমাজ :ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার পর চার সন্তান নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে তাঁর পরিবার। সন্তানদের লালন-পালনের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের কাছে আবেদন করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এক দিনের বেতন কর্তনের বিষয়ে মতামত ও সম্মতি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

বুধবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সভাপতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিক্ষিকার স্বামীর আবেদনটি জিয়া পরিষদের কাছে জমা দেওয়া হয়। আবেদনটি পর্যালোচনার পর পরিষদের সভাপতি মন্তব্য করেন, চার সন্তানের লালন-পালনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল বেতন থেকে এক দিনের সমপরিমাণ অর্থ কর্তনের জন্য তাঁদের সম্মতি নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সকল শিক্ষককে অবহিত করতে এবং তাঁদের মতামত জানতে আবেদনপত্রটি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিজ কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান।

মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় অভিযুক্ত অন্য তিনজন হলেন— সাবেক উপ-রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।