কয়রা-বেতগ্রাম সড়ক প্রকল্প: ২ বছরের কাজ ৬ বছরেও শেষ নয়, ভোগান্তিতে মানুষ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত যেতে পারে

0
কয়রা-বেতগ্রাম সড়কের খারাপ অবস্থা ও চলমান নির্মাণকাজ

এইচ. এম. শফিউল ইসলাম, কপিলমুনি (খুলনা):
খুলনা জেলার কয়রা-বেতগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প দুই বছর মেয়াদি হলেও ছয় বছরেও শেষ হয়নি। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় এবং ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। শুরুতে ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পরবর্তীতে আরও ৫০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৭৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কাজের ধীরগতি ও অনিশ্চয়তা
বর্তমানে জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে প্রকল্পের প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও ত্রুটি
সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় সড়ক প্রশস্তকরণ, বাঁক সরলীকরণ, কালভার্ট নির্মাণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ছিল।
তবে বাস্তবে অনেক স্থানে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও সড়ক দেবে গেছে এবং গাইডওয়াল হেলে পড়েছে।

কয়রা-বেতগ্রাম সড়কের খারাপ অবস্থা ও চলমান নির্মাণকাজমাঠপর্যায়ের চিত্র
সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ২০টি স্থানে বাঁক সরলীকরণের নামে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের একদিকে কাজ চললেও অন্যদিকে সম্পন্ন অংশে গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পিকআপ চালক খোকন সানা বলেন, “৬ বছর ধরে সড়কের কাজ চলছে, কিন্তু শেষ হচ্ছে না। ২-৩ কিলোমিটার পরপর যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।”
নাগরিক উদ্বেগ
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) পাইকগাছা শাখার সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন বলেন, “এই সড়কটি চালু হলে কয়রা ও পাইকগাছার মানুষের যাতায়াত সহজ হতো। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে।”
ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির খোকন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে যন্ত্রচালিত কাজ ব্যাহত হওয়ায় অগ্রগতি ধীর হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক তানিমুল হক জানান, জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত যেতে পারে।