হাওরে ধান কাটতে ২ হাজার টাকা মজুরিতেও মিলছে না শ্রমিক; হারভেস্টারের ভাড়া চার গুণ

0
হাওরের নিচু এলাকায় পানিতে ভাসছে ধানখেত; এক সপ্তাহের ব্যবধানে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে দ্বিগুণ।। ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটার শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দুই হাজার টাকায় পৌঁছালেও কাঙ্ক্ষিত শ্রমিক মিলছে না। অন্যদিকে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধান মাড়াই যন্ত্রের (হারভেস্টার) মালিকরা সিন্ডিকেট করে চার গুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে করিমগঞ্জের বড় হাওর ও বড়াটিয়া হাওর এলাকায় দেখা গেছে, বুক সমান পানিতে পাকা ধান দুললেও কাটার লোক নেই। বাধ্য হয়ে স্কুলপড়ুয়া সন্তান ও পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকেরা। কৃষক আবদুল কাদিরের অভিযোগ, বৃষ্টির আগে যেখানে একর প্রতি ভাড়া ছিল ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা, এখন তা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি হারভেস্টার মালিকদের এই তালবাহানায় প্রান্তিক চাষিরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত জেলায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৩২ হাজার কৃষক। ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ শতকোটি টাকা ধরা হলেও কৃষকদের দাবি এই ক্ষতি কয়েক গুণ বেশি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ধনু-বৌলাই ও মগড়া নদীর পানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতি বছর বাইরে থেকে আসা শ্রমিকরা এবার না আসায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় ৩৬৭টি হারভেস্টার থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। দুর্যোগকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।