অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল পরিকল্পনা: টিকার অব্যবস্থাপনায় ১১ রোগের বিস্তার ও ২৬ রোগ ছড়ানোর শঙ্কা

0
অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত জটিলতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে স্বাস্থ্য খাত; টিকার সংকটে ১১ রোগের বিস্তার ।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

দেশের স্বাস্থ্য খাতে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য সেবার মূল চালিকাশক্তি ‘অপারেশন প্ল্যান’ (ওপি) হুট করে বন্ধ করে দেওয়া এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত নীতিগত জটিলতার কারণে ১১টি রোগের টিকার চরম সংকট তৈরি হয়েছে। এতে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে অন্তত ২৬টি সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (এইচপিএনএসপি) আওতায় ১৯৯৮ সাল থেকে বিভিন্ন অপারেশন প্ল্যানের মাধ্যমে দেশে রোগ প্রতিরোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ওষুধ সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। চতুর্থ সেক্টর প্রোগ্রাম ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার পর জুলাই থেকে পঞ্চম পর্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বছরের মার্চে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই ওপি বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এতে ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে। ইউনিসেফকে বাদ দিয়ে টিকা কেনার চেষ্টার মতো দীর্ঘসূত্রিতার কারণে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকার সরবরাহ ঘাটতি ছিল। ফলে অনেক শিশু ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি ও নিউমোনিয়ার মতো রোগের পূর্ণ ডোজ টিকা পায়নি। এ ছাড়া ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন এবং কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এক বছর ধরে বন্ধ থাকায় শিশুদের রাতকানা ও অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, “ওপি বন্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়ন কমা ও দুর্নীতি রোধের দোহাই দেওয়া হলেও এর কোনো বিকল্প রোডম্যাপ ছিল না।” একইভাবে কালাজ্বর, এইচআইভি কিট সংকট এবং অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যক্ষ্মার কিট ও ওষুধের সরবরাহ ঠিক রাখতে ইতিমধ্যে জরুরি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত নতুন ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।