ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় যশোরের মেয়ে ডা. চাঁদ সুলতানা ডোরার মৃত্যু

যশোরে সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে যথাযথ সেবা না পেয়ে এবং চিকিৎসক রেহমুনা জাহানের অবহেলার কারণে যশোরের মেয়ে চিকিৎসক চাঁদ সুলতানা ডোরার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চিকিৎসক চাঁদ সুলতানা ডোরার মা শিরিন সৈয়দা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাত মাসের অন্তঃসত্বা ডোরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২৯ জানুয়ারি বিকেল প্রায় ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভর্তির সময় ডোরার অতিরিক্ত জ্বর, বমি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। তবে চিকিৎসকরা গর্ভের সন্তানের হার্টবিট স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করলেও পরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

শিরিন সৈয়দা বেগম অভিযোগ করেন, দায়িত্বরত চিকিৎসক রেহনুমা জাহান খারাপ অবস্থায় ভর্তির পরও রাতে ডোরাকে দেখতে আসেননি এবং প্রায় ৯ ঘণ্টা পর ২৯ জানুয়ারি সকালে স্বল্প সময়ের জন্য রোগী দেখতে আসেন। এ সময় ডোরার পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা না করেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

তাছাড়া রোগীকে দীর্ঘ সময় স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে যথাযথ তথ্য দেওয়া হয়নি। এরপর রোগীর অবস্থা ক্রমশ অবনতি হলেও তা গোপন রাখা হয় এবং দুপুরে হঠাৎ করে সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জানানো হয় স্বজনদের।

সংবাদ সম্মেলনে ডোরার স্বামী চিকিৎসক মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সময়মতো আইসিইউ বা এইচডিইউ সাপোর্ট দেওয়া হয়নি রোগীকে। প্রয়োজনীয় মনিটরিং ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অবহেলা করা হয়েছে। এছাড়া ডোরার গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্বেও তাকে সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়েটিক দেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনেরা অভিযোগ করেন, যথাযথ চিকিৎসা সেবা না দেওয়া এবং চিকিৎসক রেহমুনা জামানের অবহেলার কারণে ডোরার মৃত্যু হয়েছে। এ জন্য তারা দায়ী চিকিৎসক রেহনুমা জাহানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, তার লাইসেন্স বাতিল এবং তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা টিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডোরার পিতা শেখ মনসুর উদ্দিন, চাচা শেখ নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।