বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য জব্দ

0
বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি রোধ। বেকিং পাউডারের আড়ালে আসছিল দামী শাড়ি ও কসমেটিকস। নেপথ্যে বন্দর পরিচালকের সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বেনাপোল(যশোর) প্রতিনিধি ॥ দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আবারও বড় ধরনের পণ্য জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। বেকিং পাউডার আমদানির ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ঘোষণা বহির্ভূত গার্মেন্টস সামগ্রী ও কসমেটিকস পাচারের চেষ্টা নসাৎ করে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে ভারতীয় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে এই বিশাল চালানটি জব্দ করা হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ ভারত থেকে ১৩০ বস্তা বেকিং পাউডার আনার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু গোপন সংবাদে কাস্টমস কর্মকর্তারা ভারতীয় ট্রাকটি (ডই-১৫, ই-৮৫৯৩) তল্লাশি করে দেখতে পান, ঘোষণার আড়ালে ১০৮টি প্যাকেজে রয়েছে ৬,৫৩০ পিস উন্নতমানের ভারতীয় শাড়ি, ৫৮৮ পিস থ্রি-পিস, ৩০০ পিস টু-পিস, ৫২০ পিস ওড়না এবং ২৬০ কেজি বেবি ওয়্যার। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ফেইস ওয়াশ, বডি লোশন ও জর্দা তৈরির কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, কাগজপত্রে ১৩০ বস্তা বেকিং পাউডারের কথা থাকলেও ট্রাকটিতে পাওয়া গেছে মাত্র ১০৮ বস্তা। বাকি ২২ বস্তার মালামাল গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বিশাল শুল্ক ফাঁকির নেপথ্যে খোদ বন্দর পরিচালক শামীম হোসেনের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পরিচালক শামীম পছন্দের সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান করেন। এমনকি অনিয়ম করার সুবিধার্থে বিভিন্ন শেডে তিনি নিজস্ব লোক পোস্টিং দিয়ে থাকেন। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ফরিদপুরে তাঁর বদলির আদেশ হলেও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি সেই বদলি ঠেকিয়ে বহাল তবিয়তে বেনাপোলে দায়িত্ব পালন করছেন।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। জব্দকৃত পণ্যের বিপরীতে আমদানিকারক সাফা ইমপেক্স ও সিএন্ডএফ এজেন্ট হুদা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, এমন লাগামহীন জালিয়াতির কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।