রক্তভেজা সড়কে পড়ে আছে শিশুদের চুষনি ও জুতা

0
রামপালে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত। দুর্ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা শিশুদের চুষনি ও জুতা দেখে শিউরে উঠছে মানুষ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাগেরহাটের রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় গতকালের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনাস্থলে আজ শুক্রবার সকালেও চোখে পড়ে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। পাকা সড়কের ঢালজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরা আর দুমড়েমুড়ো যন্ত্রাংশের ভিড়ে পড়ে আছে শিশুদের একটি চুষনি ও কয়েক জোড়া ছোট ছোট জুতা। বিকেলের সেই আনন্দযাত্রা যে কতটা বিভীষিকাময় ছিল, এই চুষনিটি যেন আজ সেই মর্মান্তিক ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪টিই শিশু, যাদের মধ্যে দুই শিশুর বয়স দুই বছরের কম। গন্তব্যস্থল থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা একটি সাজানো পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের পরিবারের ৮ জন সদস্য এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি এই দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে, দুই ভাই, বাবা ও বোনকে হারিয়ে এখন নির্বাক। কান্নায় ভেঙে পড়া জনি বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে, আমি এখন একা।”

আজ সকালে দুর্ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম জানান, জীবনে এত বড় বীভৎস দৃশ্য তিনি আগে কখনো দেখেননি। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে আজ যেখানে নববধূর আগমনে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই সারি সারি লাশ আর স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদ। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে নিহতদের দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।