এক ট্রফিতেই ভারতের তিন ইতিহাস

0
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রাজা ভারত! সূর্যকুমারের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ঘরের মাঠে প্রথম দেশ হিসেবে ট্রফি জিতল টিম ইন্ডিয়া।। ছবি: সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই স্তব্ধ আহমেদাবাদ আজ ফেটে পড়ল গগনবিদারি উল্লাসে। এক বছর আগে সেই মাঠে অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মার যে অশ্রু ঝরেছিল, আজ গ্যালারিতে বসে উত্তরসূরিদের বিশ্বজয় দেখে সেই আক্ষেপ ঘুচলো তার। সূর্যকুমার যাদবের ক্ষুরধার নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরোদ্ধার করল ভারত। রোববার (৮ মার্চ) নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কিউইদের কোনো পাত্তাই দেয়নি স্বাগতিকরা। এই এক জয়েই ভারত বিশ্ব ক্রিকেটে তিনটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে—প্রথম স্বাগতিক দেশ হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়, টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব এবং সর্বমোট তিনবার এই ট্রফি জেতার অনন্য রেকর্ড।

ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই কিউই বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান ভারতীয় ব্যাটাররা। উদ্বোধনী জুটিতে ঈশান কিষান ও সঞ্জু স্যামসন মাত্র ৭ ওভারে ৯৮ রান তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ঈশান ৫৪ ও অভিষেক শর্মা ৫২ রানে বিদায় নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। ৪৬ বলে ৮৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি ভারতকে ২৫৫ রানের পাহাড়সম পুঁজিতে পৌঁছে দেন। যদিও ইনিংসের ১৫তম ওভারে জিমি নিশাম এক ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতকে কিছুটা চাপে ফেলেছিলেন, কিন্তু শেষ ওভারে শিবম দুবের ২৪ রানের ঝড়ে সেই শঙ্কা কেটে যায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনালের মঞ্চে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড।

২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার দেশবাসীকে রাত জেগে খেলা দেখার অনুরোধ জানালেও, মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন ছিল সামান্যই। যশপ্রীত বুমরার বিষাক্ত ইয়র্কারে দিশেহারা কিউইরা ১৯ ওভারে মাত্র ১৫৯ রানেই অলআউট হয়ে যায়। বুমরা ১৫ রান দিয়ে একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট। অসামান্য পারফরম্যান্সের জন্য বুমরা ম্যাচসেরা এবং পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের জন্য সঞ্জু স্যামসন সিরিজ সেরার পুরস্কার অর্জন করেন। গ্যালারিতে বিসিসিআই সচিব জয় শাহ, মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রোহিত শর্মার আনন্দঘন উপস্থিতি ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়কে আরও মহিমান্বিত করে তোলে।