যশোর হাসপাতালে ‘বকশিস’ বন্ধের নির্দেশে স্বেচ্ছাসেবকদের অবস্থান কর্মসূচি

0
রোগীদের কাছ থেকে বকশিস নেওয়া বন্ধ করায় যশোরে স্বেচ্ছাসেবকদের ধর্মঘট! ট্রলি দিতেই নেওয়া হতো ১০০০ টাকা পর্যন্ত।। ছবি: লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রোগীদের কাছ থেকে তথাকথিত ‘বকশিস’ আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবকরা। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের সামনে ২৫-৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক জড়ো হয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত দাপ্তরিক কাজে খুলনায় অবস্থান করছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে ১০৬ জন স্বেচ্ছাসেবককে এই হাসপাতালে বিনামূল্যে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কোনো বেতন না থাকলেও তারা মূলত রোগীদের ট্রলি বহন ও ওয়ার্ডে যাতায়াতের বিনিময়ে ‘বকশিস’ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। একপর্যায়ে এটি বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজিতে রূপ নেয়। ট্রলি ব্যবহারের জন্য ১০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হতো। টাকা না দিলে তারা রোগীদের সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিত। এই ‘বকশিস’ বাণিজ্যের কারণে হাসপাতালে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ রোগীরা চরম শোষণের শিকার হন। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়।

গত ৩ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ওয়ার্ডে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, কোনো রোগীর কাছ থেকে বকশিস বা অন্য কোনো অজুহাতে টাকা নেওয়া যাবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দিতে হবে এবং এই নির্দেশ অমান্য করলে তাদের কাজ থেকে অব্যাহতিসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশের প্রতিবাদেই শনিবার স্বেচ্ছাসেবকরা ‘বকশিস’ আদায়ের সুযোগ দাবিতে কাজ বন্ধ করে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত উজ্জ্বল, অমিত, লক্ষণ ও হালিমসহ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের সাথে আলাপ করলে তারা খোলাখুলিভাবে জানান, বকশিস বা টাকা ছাড়া তারা কাজ করতে পারবেন না। টাকা নেওয়া বেআইনি জেনেও তারা দাবি করেন, টাকা না পেলে খাব কী? বকশিস না দিলে আমাদের সংসার চলবে না। বকশিস বন্ধের নির্দেশ না তোলা পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়কের চলতি দায়িত্বে থাকা ডা. হিমাদ্রি শেখর সরকার জানান, তত্ত্বাবধায়ক মহোদয় জনস্বার্থে এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফেরাতে এই নির্দেশ দিয়েছেন। যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে চান, তাদের শর্ত মেনেই কাজ করতে হবে। বকশিসের নামে রোগীদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।