যশোরের আবাসিক হোটেলে মুন্সিগঞ্জের ব্যবসায়ীর লাশ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের জামে মসজিদ লেনের আবাসিক হোটেল প্রিন্স থেকে হারুন অর রশিদ (৫৪) নামে একজন প্লাস্টিক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ওই হোটেলের তৃতীয় তলার ৩০৩ নম্বর রুমের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মালোপাড়ার বাবুর্চিবাড়ির সামাদ বাবুর্চির ছেলে।

পুরাতনকসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, দুপুরে ওই হোটেলের কর্মচারীরা এসে তাকে বলেন, তাদের একটি রুমের ভেতর বোর্ডার রয়েছেন। কিন্তু ধাক্কাধাক্কির পরও দরজা খুলছেন না। এ খবর পেয়ে তিনি হোটেলে যান এবং কর্মচারীদের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে রুমের ভেতর ঢোকেন।

এ সময় দেখতে পান, বিছানার ওপর ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ পড়ে আছেন। অনেক ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বুঝতে পারেন, ব্যবসায়ী মারা গেছেন। তার পাশে থাকা মোবাইল ফোনটি ‘ফ্লাইট মুডে’ রাখা ছিল। আত্মীয়-স্বজনের কারো মোবাইল ফোন নম্বর না থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।

এরই মধ্যে তিনি মোবাইলের ফ্লাইট মুডটি অফ করার পরপরই একটি কল আসে। তিনি কলটি রিসিভ করলে অপাশ থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে মুন্সিগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনিও নিজেকে যশোরের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তখন মুন্সিগঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জানান, ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তার স্বজনেরা থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছেন।

এরপর এসআই মো. ওয়াহিদুজ্জামান ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে হারুন অর রশিদের হোটেলে মৃত্যুর সংবাদ দেন। এর কিছুক্ষণ পর ব্যবসায়ীর জামাই আসাদুজ্জামান মোবাইল ফোন করলে তাকেও মৃত্যুর সংবাদ দেন

জামাইয়ের কাছ থেকে জানা যায়, হারুন অর রশিদ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী। ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় শামীম প্লাস্টিক হাউজ নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

তিনি আরো জানান, ব্যবসায়ী হারুন রশিদের শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা বলা সম্ভব নয়। লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।