সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল বলতে পারব না: ইকবাল করিম

0
সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম, ছবি: সংগৃহীত।

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে কতজন গুম হয়েছেন তা বলতে পারবেন না এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের কোনো চেষ্টা করেননি।

রোববার (১ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ জেরাকালে তিনি বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল, তা বলতে পারব না। যারা গুম হয়েছিল, তাদের কাউকে আমি উদ্ধারের চেষ্টা করি নাই। কারণ, এটা আমার দায়িত্বাধীন ছিল না এবং আমি জানতাম না, কে কখন কোথায় গুম হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কে বা কারা গুম হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর (এমআই) কোনো তথ্য দিতে পারে নাই। তবে গুম হচ্ছে মর্মে তারা আমাকে জানিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার (১ মার্চ) চতুর্থ দিনের মতো ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি তাকে জেরা করেন।

উল্লেখ্য গত ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন। ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর প্রথম দফায় তাকে জেরা করা হয়।

জেরায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘গুমের সংস্কৃতি প্রতিরোধ করতে আমি অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ মর্মে দালিলিক কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করি নাই। দালিলিক কোনো প্রমাণ নেই। গুম প্রতিরোধের জন্য সুপার চিফ বা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে চিঠি পাঠাই নাই বা তাকে লিখিতভাবে জানাই নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে কনিষ্ঠ অফিসার র‍্যাব থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার অফিসে আসেন, তার নাম স্মরণ নেই। কত তারিখ তিনি আমার কাছে এসেছিলেন, স্মরণ নেই। এই কনিষ্ঠ অফিসার দুজনকে হত্যা করেছেন মর্মে আমার কাছে স্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করি নাই। এই মর্মে কোনো সাক্ষী বা আলামত ছিল না। তার এরূপ স্বীকারোক্তি আমি রেকর্ড করি নাই। উনি প্রতিটি হত্যার জন্য প্রাপ্ত যে ১০ হাজার টাকা মসজিদে দান করেছেন, সে জন্য তাঁকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয় নাই।’