৫ আগস্টের পরের মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করছে সরকার। নিরীহ মানুষ যাতে ফেঁসে না যায়, সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় সিদ্ধান্ত।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়েরকৃত মামলাগুলো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৫ আগস্টের পর থেকে হওয়া মামলাগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই ঘোষণা দেন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের একগুচ্ছ নতুন রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু সুবিধাবাদী মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ঢালাও মামলা করেছে। তিনি বলেন, “নিরীহ মানুষ যাতে কোনোভাবেই ভোগান্তির শিকার না হয়, সেজন্য এসব মামলা পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। পুলিশ এই যাচাই-বাছাই শেষে সরকারকে একটি প্রতিবেদন দেবে। আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই, হয়রানি নয়।”

বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে দেওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজনৈতিক বা অপরাধের উদ্দেশ্যে দেওয়া লাইসেন্সগুলো অবিলম্বে বাতিল করা হবে। এছাড়া ২০০৯ সালের বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে পুনরায় তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্যে কী ছিল, তা স্বচ্ছতার সাথে জাতির সামনে আনতে নতুন করে তদন্ত করা হবে।”

পুলিশের চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনতে বিতর্কিত ‘লটারি পদ্ধতি’ বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন থেকে ওসি ও এসপি পদায়নের ক্ষেত্রে লটারি নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপাররা (এসপি) বিধির বাইরে গিয়ে কাউকে কোনো রাজনৈতিক প্রটোকল দিতে পারবেন না। এছাড়া পুলিশের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পাশাপাশি স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতি করে যারা কনস্টেবল পদে চাকরি নিয়েছেন, তাদের নিয়োগও বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি ও দালাল নির্মূলে ‘নিবন্ধিত সহায়তাকারী’ নিয়োগের নতুন পন্থার কথা জানান মন্ত্রী। দলিল লেখকদের মতো নিবন্ধিত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে সাধারণ মানুষকে ফরম পূরণে সহায়তা করবেন। অন্যদিকে, সড়কে অবরোধ বা ‘মব ভায়োলেন্স’-এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়ক বন্ধ করে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।