জামায়াতের প্রার্থী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে

সংবাদ সম্মেলনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) সংসদীয় আসনে যশোরের একমাত্র নারী প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা।

তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বাড়িতে নারী কর্মী পাঠিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন এবং পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সাবিরা সুলতানা।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সাবিরা সুলতানা বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি দুপুরে জামায়াতের নারী কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চান।

এ সময় বাড়িতে উপস্থিত নারী সদস্যরা তাদের জানান, ওই বাড়িতেই একজন প্রার্থী বসবাস করেন। সে ক্ষেত্রে সেখানে এসে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়াটা অযৌক্তিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত।

তিনি বলেন, এ কথার জবাবে জামায়াতের নারী কর্মীরা বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিলে জান্নাতবঞ্চিত ও মোনাফেক হতে হবে।’ এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে মৌখিক তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে ওই নারী কর্মীরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে সাবিরা সুলতানা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় যুবদল নেতা ও প্রয়াত নাজমুল ইসলামের ছোটভাই আরাফাত কল্লোল বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। অথচ জামায়াতের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দিন ফরিদ দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, কল্লোল নাকি তাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। সাবিরা সুলতানা বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। নারী প্রার্থী হিসেবে জনগণের কাছ থেকে যে বিপুল সাড়া পাচ্ছেন, তা নস্যাৎ করতেই এমন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাবিরা সুলতানা এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টির অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, শুধু যশোর-২ আসনেই নয়, যশোর জেলার সবকটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে একটি সুপরিকল্পিত নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সব ধরনের উসকানি এড়িয়ে শান্ত ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, জামায়াতে ইসলামী গত কয়েক দিন ধরে যেসব অভিযোগ করে আসছে, তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে। জনগণের ব্যাপক সমর্থন দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি পক্ষ দিশেহারা হয়ে এ ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের ঝিকরগাছা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আরাফাত কল্লোল, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল হোসেন, উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সুমন, পৌর বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া ইয়াসমিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক নওয়াজিস ইসলাম রিয়েলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।