১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে খুনি ভাড়া করেন জামাই পরশ

আটক আরও এক জন আদালতে জানালো

0
আটক শাহিন কাজী (২৫)।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের শংকরপুরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া শাহিন কাজী (২৫) নামে আরো এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে শহরের লোন অফিস পাড়ার ভাড়ার বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এর এক সপ্তাহ আগে শ্যুটার ত্রিবিদ চক্রবর্তী মিশুককে ডিবি পুলিশ আটক করেছিলো। ডিবি পুলিশ বলছে, জামাই বাসেদ আলী পরশ ১৫ লাখ টাকা কন্ট্রাক্টে আলমগীর হোসেনকে খুন করিয়েছেন বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার আটক শাহিন কাজী শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আটক শাহিন কাজী একই এলাকার সাইফুল ইসলাম রিপনের ছেলে আলোচিত সন্ত্রাসী প্রিন্সের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে গত মঙ্গলবার বিকেলে লোন অফিস পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ভাড়া বাড়ি থেকে শাহিন কাজীকে আটক করেন। আটক শাহিন কাজী শংকরপুরে আলমগীর হোসেন হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছিলেন।

বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে শাহিন কাজী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম আটক শাহিন কাজীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয়।

এসআই অলক কুমার দে জানান, ইতোপূর্বে আটক ত্রিবিদ চক্রবর্তী মিশুক এবং গত মঙ্গলবার আটক শাহিন কাজীর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে একই তথ্য উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, তদন্তকালে জানতে পেরেছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে জামাই পরশ ১৫ লাখ টাকা কন্ট্রাক্টে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে আলমগীর হোসেনকে হত্যা করিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের আগে ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের নগদ ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিলো। হত্যাকাণ্ডের পরে আরো ৪ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তারই আগে ডিবি পুলিশের জালে পরশ ধরা পড়ে যাওয়ায় টাকা লেনদেন বিষয়টি এলোমেলো হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, সন্ত্রাসীদের একজন শ্যুটার ত্রিবিদ চক্রবর্তী মিশুককে অস্ত্র সরবারাহ করেছিলো। হত্যা মিশন শেষে তাকে সেই অস্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন ত্রিবিদ চক্রবর্তী মিশুক।

এসআই অলক কুমার দে বলেন, আলমগীর হোসেন হত্যা মিশনে ৩টি মোটরসাইকেলে ৭ জন ছিলেন। শংকরপুর বটতলা এলাকা হয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সেখানকার তার একটি অফিসের সামনে কিছু সময় অবস্থান করেন। সন্ত্রাসীরাও তার পিছু পিছু এসে সেখানে অবস্থান করেন। পরে আলমগীর হোসেন সেখান থেকে তার পিছু নেয় সন্ত্রাসীরা এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, শ্যুটারসহ হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া দুই জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটক এবং অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইতোপূর্বে আটক শ্যুটার ত্রিবিদ চক্রবর্তী মিশুকের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া শাহিন কাজীকে আটক করেছেন এসআই অলক কুমার দে।

আটক শাহিন কাজীর বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ মোট ৩টি মামলা রয়েছে। যশোরের আলোচিত জুম্মান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শাহিন কাজী।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সেেলর ফ্রেব্রুয়ারির প্রথম দিকে মাদক ব্যবসার নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন ১৫ মামলার আসামি জুম্মান। যশোর রেলস্টেশনের প্লাটফরমের উপর তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত জুম্মান শংকরপুরের মুরাদ হোসেনের ছেলে।