শীতে স্থবির জনজীবন, কমেছে হাসপাতালের রোগীও

0

বিএম আসাদ ॥ যশোরে জেঁকে বসা হাড়কাঁপানো শীত ও টানা শৈত্যপ্রবাহে থমকে গেছে জনজীবন। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় তার বড় প্রভাব পড়েছে হাসপাতালগুলোতে। আগে যেখানে রোগীর ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই থাকতো না, তীব্র ঠান্ডার এই কয়েক দিনে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিত্র ঠিক তার উল্টো।

চিকিৎসকরা বলছেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে মানুষ বাইরে বের না হওয়ায় এবং আবহাওয়া বর্তমানে স্থিতিশীল থাকায় হাসপাতালে রোগীর চাপ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আগে প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসতেন প্রায় ২৫০০ রোগী। বর্তমানে তা কমে ১ হাজার থেকে ১২ শ-তে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার ১২শ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন বহির্বিভাগে। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৬০ জন। বাকিরা ছিলেন বিভিন্ন বয়সী অন্যান্য রোগী।

অন্যদিকে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ওয়ার্ডে যেখানে রোগীর সংখ্যা থাকতো ৮০০ জন, সেখানে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫০০ জনে। এদিন মঙ্গলবার ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৪১ জন। শিশু ওয়ার্ডে রোগী ছিল ৬৭ জন, যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ১০০ রোগী ভর্তি থাকতো। অনুরূপভাবে সকল ওয়ার্ডেই রোগীর সংখ্যা কমে গেছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আহমদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর সুমনের সাথে রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম-বেশি হয়। বর্তমানে বরফের মতো প্রচণ্ড ঠান্ডা বিরাজ করছে। হিমশীতল এ পরিবেশে লোকজন তেমন বাড়ি হতে বের হচ্ছে না।

প্রচণ্ড ঠান্ডায় শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো অবস্থা হয়েছে। এ সময়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপও কিছুটা কমে গেছে। মূলত রোগের মাত্রা কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতিতে রোগীর সংখ্যা কমেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শীতের পরিবেশ এখন স্থিতিশীল, তাই রোগ ও রোগী কম। যখন ঠান্ডা ও গরম আবহাওয়ার তারতম্য (পরিবর্তন) ঘটে, তখন রোগ ও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। শীত যখন বিদায় নেবে এবং গরম কাল আসবে, আবহাওয়া পরিবর্তনের সেই সময়টাতে আবার রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবে বলে জানান ডা. আহমদ জাহাঙ্গীর সুমন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও প্রচণ্ড ঠান্ডায় একইভাবে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে।