যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: প্রধান আসামি জামাতা পরশসহ গ্রেপ্তার- ২

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন (৫৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে নিহতের স্ত্রী শামীমা খাতুন বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় নিহতের একমাত্র মেয়ের জামাতা বাসেদ আলী পরশকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ইতিমধেই মামলার প্রধান আসামি জামাতা পরশ এবং আসাবুল ইসলাম সাগর নামে অপর এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত সাগর এক সময় জনৈক চরমপন্থী নেতার বডিগার্ড হিসেবে কাজ করতেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। মামলায় এই দুজন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে আলমগীর হোসেনকে হত্যা করে। প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলেও পারিবারিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আসছে।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৯-১০ বছর আগে আলমগীর হোসেনের একমাত্র মেয়ের সঙ্গে পরশের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। মাঝখানে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও পরবর্তীতে সামাজিকভাবে মিটমাট করে তারা সংসার শুরু করেন। তবে সম্প্রতি পরশ পুনরায় যৌতুকের জন্য শ্বশুরকে চাপ দিতে শুরু করলে কলহ চরমে পৌঁছায়। এর জেরে আলমগীরের মেয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং পরশ তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এছাড়া আলমগীর ও পরশ দুজনই জমি কেনাবেচার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল।

মামলার অন্য আসামি সাগরের সাথে আলমগীরের বিরোধের সূত্রপাত গত ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর। আলমগীরের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় তার বাড়ি ভাঙচুর করতে গেলে সাগরের সাথে আলমগীরের বাকবিতণ্ডা হয়। সম্প্রতি সাগরের স্ত্রী আলমগীরসহ চার পুলিশের নামে মামলাও করেছিলেন এবং সাগর ফেসবুকে আলমগীরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক পোস্ট দিতেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সিআইডির সহায়তা নেওয়া হবে। দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।