হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে বোরো রোপণ করছেন কৃষক

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষক শুরু করেছেন বোরো ধান রোপণ। তবে শীতের কারণে দিনমজুর না পাওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চৌগাছায় ১৮ হাজার ৯শ ৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫শ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হবে বলে মনে করছে কৃষি অফিস। ফল ও অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ কিছুটা কমে যাওয়ায় কৃষক ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছেন এমনটিই জানা গেছে।

রোববার চৌগাছা পৌর এলাকার বাকপাড়া বিলে গিয়ে দেখা গেছে, প্রচণ্ড শীত, নেই সূর্যের দেখা, সেই সাথে বয়ে যাচ্ছে হিমেল হাওয়া। এই বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে কিছু কৃষক নেমে পড়েছেন মাঠে। তারা বেশ আগেই জমি প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছেন, দেরি হলে ওই জমিতে আর ধান রোপণ সম্ভব হবে না, সে কারণে শীতকে উপেক্ষা করে তারা ধান রোপণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে কিছুটা আগে ভাগেই ধান রোপণ করবো বলে জমি প্রস্তুত সম্পন্ন করি। কিন্তু হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। সে কারণে ধান রোপণের কাজে নিয়োজিত দিনমজুর পাওয়া দুরুহ ব্যাপার হয়ে উঠেছে। কোনো উপায় না পেয়ে নিজেই চলে এসেছি ধান রোপণের কাজে। গত আমন মৌসুমে এই বিলে কোনো ধান হয়নি।

জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে আমার মত অনেকইে ধান রোপণ করতে পারেনি, তাই বোরো ধান কিছুটা আগে রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে বিলের এক তৃতীয়াংশ জমি প্রস্তুত হয়েছে, দ্রুতই সকলেই রোপণ কাজ সেরে ফেলবে।

এ দিকে উপজেলার সিংহঝুলী, কয়ারপাড়া, ইছাপুর, বিশ্বাসপাড়া, চাঁনপুর, তারিনিবাস, কদমতলা, আন্দারকোটাসহ বেশ কিছু গ্রাম এলাকায় খোজ নিয়ে জানা গেছে, মাঠের পর মাঠ এখন বোরো ধান রোপণে কৃষক জমি প্রস্তুতির কাজ সেরে নিচ্ছেন। কেউ জমিতে গোবর সার ফেলে তা সমস্ত জমিতে বিছিয়ে দিয়ে পানি ফেলেছেন, কেউ আবার চাষ শুরু করেছেন।

সিংহঝুলী গ্রামের সফল ধান চাষি শাহিনুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই তিনি ১০ থেকে ১২ বিঘা জিমতে বোরো ধানের চাষ করেন, এ বছরও সমপরিমাণ জমিতে ধানের চাষ করবেন। ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুত চলছে, শীত কম হলেই ধান রোপণের জন্য মাঠে নেমে পড়বেন। চাঁদপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে তিনি ৭ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করবেন বলে মনস্থির করেছেন। ধানের চারা প্রস্তুত, জমিও প্রস্ততির কাজ চলছে। কোনো দুর্যোগ না ঘটলে আগামী সপ্তাহে ধান রোপণের জন্য মাঠে কাজ শুরু হয়ে যাবে।

তারনিবাস গ্রামের কৃষক চঞ্চল কবির বলেন, দুই বিঘা জমিতে ধান রোপণ করা হবে। চারা প্রস্তুত হয়েছে জমিতে পানি দিয়ে চলছে চাষের কাজ। শীতের কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, চৌগাছা এলাকাতে রড মিনিকেটসহ ব্রি ধান ৫০, ৮৮, ৮৯, ৯২, ১০১ ও ১০২ জাতের ধানের চাষ বেশি হয়। ধান রোপণের জন্য চারা প্রস্তুত, কিছু কিছু এলাকায় রোপণ কাজ শুরু হয়েছে। শীত কমলেই পুরোদমে ধান রোপণ শুরু হবে। কৃষি অফিস হতে চাষিদের সর্বদা পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, আমরা আশা করছি এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।