মনিরামপুরে পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা!

0

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর)॥ ফেসবুকে পরিচয় হয়ে প্রেমের একমাস পর অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় স্বামীর হাতে আটক হয়েছে এক গৃহবধূ ও তারপ্রেমিক রাকেশ হৃদয়। আটকের পর স্ত্রী ও তার প্রেমিককে বেঁধে মারপিটও করা হয়। পরে স্থানীয় সালিশি সভায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আর এ ঘটনা ঘটে রোববার বিকেলে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি গ্রামে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার হাজিরহাট বাজারের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও এশটি সোনার দোকানের মালিকের সাথে ১৬ বছর আগে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা খর্নিয়া গ্রামের এক কর্মকারের মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১২ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে মাত্র দেড় মাস আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় অভয়নগর উপজেলার সমসপুর গ্রামের দুই সন্তানের জনক রাকেশ হৃদয় নামে এক যুবকের। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়।

২ অক্টোবর দুর্গাপূজা শেষ হবার কথা থাকলেও হাজিরহাটে হয়েছে এর ব্যতিক্রম। ২ অক্টোবর প্রতীমা বিষর্জন না দিয়ে উৎসব চলতে থাকে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্ডপে যাত্রাপালাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ডপ কমিটি। ফলে হরিদাসকাটি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক ওই দুর্গোৎসবে যোগ দেন।

অভিযোগ উঠেছে এ সুযোগে কমিটির সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী গত শনিবার সন্ধ্যার পর তার প্রেমিক রাকেশকে খবর দিয়ে বাড়িতে আনেন। কিন্তু এ খবর পেয়ে যান ওই গৃহবধূর স্বামী। রাত ১২ টার দিকে ঘরের মধ্যে স্ত্রীর সাথে তার প্রেমিক রাকেশকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে স্বামী দরজায় তালা লাগিয়ে দেন।

পরদিন রোববার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে স্বামী তালা খুলে কতিথ প্রেমিক রাকেশসহ তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে বেঁধে মারপিট করেন। এক পর্যায়ে হাজিরহাট পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিকাশ রায়, হরিদাসকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নবিরুজ্জমান আজাদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সালিশ হয়।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিকাশ রায় বলেন, সভায় গৃহবধূ তার স্বামীর সাথে সংসার না করার কথা জানিয়ে প্রেমিক রাকেশেকে বিয়ে করতে চান।

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নবিরুজ্জামান আজাদ বলেন, বিকেলে গৃহবধূ এবং তার স্বামী ও প্রেমিক রাকেশের কাছ থেকে একটি সম্মতিপত্রে সই নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।

মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান জানান, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি।