যশোরে ভারতীয় সিমকার্ড ও ভিসা কার্ডসহ সন্দেহভাজন গুপ্তচর আটক

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ যশোরে গুপ্তচর সন্দেহে সাইফুল ইসলাম ওরফে আরিফুর রহমান সোহেল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ভারতীয় সিমকার্ড, ব্যাংকের ভিসা কার্ড মেট্রোরেলের স্মার্ট কার্ডসহ বিভিন্ন সন্দেহভাজন মালামাল জব্দ করা হয়।

পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার তাকে যশোর টাউন হল মাঠ থেকে আটক করা হয়েছে। তবে দুই দিন আগে দুপুরে টাউন হল মাঠ থেকে তাকে পুলিশ আটক করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আটক সাইফুল ইসলাম ওরফে আরিফুর রহমান সোহেল ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সম্ভুগঞ্জ এলাকার মৃত মাইনুল ইসলাম ওরফে মিজানুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোর সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কোতয়ালি থানার এসআই মোফাজ্জেল হোসেন ডিএসবির মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর টাউন হল মাঠ থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। এ সময় তার কাছে থাকা একটি বস্তার ভেতর থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ২৬টি মোবাইল ফোনের সিমকার্ড (যার মধ্যে ২টি সচল এবং ১টি ভারতীয়), ১টি ভাঙা অ্যান্ডয়েড মোবাইল ফোনসেট, চেইনযুক্ত ছোট সাইজের ৪টি পার্স, ভিন্ন ভিন্ন লেখা ৫৬টি চিরকুট, ১টি মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের ফটোকপি (যশোর-হ-১৬-০৭৮২), ১টি ভারতীয় মেট্রোরেলের স্মার্ট কার্ড, জনৈক রিজাউল ইসলামের নামে সাইথ-ইস্ট ব্যাংকের ১টি এটিএম কার্ড, রিতুরম্ভা সরকারের নামে ভারতীয় এসবিআই ব্যাংকের ১টি গ্লোবাল ভিসা কার্ড, আসিফ খান লেখা ১টি ভারতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি, ১টি ভারতীয় রুপির কয়েন, ২টি মেমোরি কার্ড ইত্যাদি জব্দ করা হয়।

সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি নিজেকে আড়াল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গুপ্তচরবৃত্তি অথবা বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত হয়ে থাকতে পারেন।

ডিবি পুলিশের এসআই শেখ আবু হাসান জানান, আটক ব্যক্তিকে তারা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রথমে নিজের নাম সাইফুল ইসলাম এবং বাড়ি ময়মনসিংহের সম্ভুগঞ্জ বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু তারা ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সাইফুল ইসলাম নামের এই ব্যক্তিকে কেউ চেনেন না।

এরপর কারাগারে গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে যশোরের একজন ইজিবাইক চালকের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, ওই ব্যক্তির নাম সোহেল। তার বাড়ি সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটিতে। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে স্বজনদের এসে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই আসেননি। এ কারণে তারা সন্দেহভাজন এই ব্যক্তিকে কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।