যশোর জেনারেল হাসপাতালে চালু হচ্ছে ডায়ালাইসিস ইউনিট

0

বি এম আসাদ॥ যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু হচ্ছে। ডায়ালাইসিস চালুর জন্যে টেবিলসহ আসবাবপত্র এসেছে হাসপাতালে। এরআগে ১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন এসেছিল। কিন্তু মেশিন আসলেও আসবাবপত্র না আসায় পরে ওই মেশিনগুলো ফেরত চলে যায়। ফেরৎ যাওয়ার ৪ বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা থেকে মেশিন রাখার টেবিল, চেয়ারসহ আনুষঙ্গিক আসবাবপত্র পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করার জন্যে যে জনবল দরকার সে জনবল নিয়োগ করা হয়নি। তবে স্থানীয় উদ্যোগে যেভাবে আই সি ইউ চালু করা হয়েছে সেভাবে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করার চেষ্টা চলছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ডয়াালাইসিস ইউনিট চালু করা যাবে। আই সি ইউ ইউনিটের পাশে দুটি ইউনিট খালি জায়গা পড়ে আছে। সেখানেই চালু করা যাবে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ডায়ালাইসিস ইউনিট।

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হলে দক্ষিণবঙ্গের সর্বপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ জেলা যশোরের গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে ও আশপাশের জেলার কিডনিতে আক্রান্ত রোগীরা কম খরচে কিডনি ডায়ালাইসিসের সরকারি সেবা নিতে পারবে যশোরে এসে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নিবার্হী কমিটিতে ৩শ কোটি টাকারও বেশি সরকারি অর্থায়নে দেশের ১৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০শয্যা এবং ৪৪টি জেলা সদর হাসপাতালে ১০শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডাক্তার খান মোহাম্মদ আরিফকে।

পরে ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যশোরসহ বাকি ৪৩টি জেলা সদর হাসপাতালে ১০শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু করার জন্যে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন প্রেরণ করা হয়। যশোরেও ১১টি মেশিন আসে। কিন্তু সে সময় হাসপাতালে সহকারী পরিচালকের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার হারুন অর রশিদ দহাসপাতালের জায়গা সংকট দেখিয়ে ১১টি মেশিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গ্রহণ না করে ফেরৎ পাঠিয়ে দেন। যে কারণে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার আজও চালু হয়নি। ফলে দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলা যশোরসহ আশপাশের জেলার রোগীরা সরকারি কম খরচে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

এদিকে মেশিন ফেরৎ দেওয়ার ৪ বছর পর চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জেনারেল হাসপাতালে মেশিন রাখাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র এসেছে।

যশোর মেডিকেল কলেজন অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের নেফ্রোলজিস্ট ডাক্তার ওবায়দুল কাদের উজ্জল বলেন, দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোন না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৫হাজার মানুষ ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে এবং ১হাজার মানুষ কিডনি সংযোজন করে বেঁচে থাকে। তিনি আরও জানান, যশোরে বেসরকারিভাবে ৫টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানে যশোর জেলা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকে অন্তত ৬শ থেকে ৮শ রোগী প্রতিমাসে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে ডায়ালাইসিসের সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবা মূল্য বেশি হওয়ার কারণে অনেকের পক্ষে ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হয় না। মন্ত্রণালয় থেকে ৪ বছর আগে যে ১১টি মেশিন যশোর জেনারেল হাসপাতাল পেয়েছিল তা চালুর ব্যবস্থা করলে সাধারণ মানুষ সহজলভ্য চিকিৎসা সুবিধা পেতো।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, এ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিটটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।