৪ ইউপি চেয়ারম্যানকে তদন্তে গাফিলতির সাজা দিয়ে ব্যতিক্রম নজির বিচারকের

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ আদালতের আদেশের পরেও তদন্ত না করা ৪ ইউপি চেয়ারম্যানকে সাজা দিয়ে ব্যতিক্রম নজির স্থাপন করেছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া। সাজাপ্রাপ্ত সকলেই সাবেক (তৎকালীন) ইউপি চেয়ারম্যান।

গতকালও সাজার মুখে পড়েছেন বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন। তাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। এ সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সরওয়ার হোসেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল বাঘারপাড়া উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের মৃত কাঙ্গালী শেখের ছেলে ওসমান আলী জমিতে সবজি চাষ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে মারধর করার অভিযোগ এনে ৪ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

ওই মামলার আসামিরা হলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা আনছার আলী, তার দুই মেয়ে মোছা. শাহানারা ও মোছা. বুড়ি এবং সিদ্দিক মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম। আদালতের তৎকালীন বিচারক অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেনকে আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ২৮টি ধার্য্যদিন পার হওয়ার হলেও তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেননি এবং এ বিষয়ে আদালতে কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।

সর্বশেষ গতকাল ছিলো মামলার ধার্য্যদিন। এদিন তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল বা এ বিষয়ে কোনো ব্যাখা দেওয়ার জন্য আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া তাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এর আগে একই ধরনের অপরাধের দায়ে অর্থাৎ আদালতের আদেশ অমান্য করায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বর্তমানে সাবেক) আলীমুজ্জামান মিলনকে (২টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা) দুই দফা ৫ দিন করে কারাদণ্ড, ইছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বর্তমানে সাবেক) ফেরদৌসী ইয়াসমিনকে (১টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা) ৫ দিনের কারাদণ্ড এবং উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বর্তমানে সাবেক) এহসানুর রহমান লিটুকে (১টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা) ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সবদুল হোসেন বাদে সাজাপ্রাপ্ত সকলেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সবদুল হোসেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। রায় ঘোষণার সময় প্রতিটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বিচারক।

এ বিষয়ে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এম এ গফুর জানান, আদালতের আদেশ অমান্য করায় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাদের সঠিক সাজা প্রদান করেছেন।