যশোরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ‘সোনার হরিণ’ বেসরকারির দাপটে জিম্মি রোগীরা

0

বিএম আসাদ ॥ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ছড়াছড়ি। বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এসব অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকরা রোগীদের জিম্মি করে রাখছে। সরকারি হাসপাতালে তিনটা অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেবা তো দূরে থাক দর্শনই পায় না রোগীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যশোর ২৫০শয্যা হাসপাতালে সরকারি তিনটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর ভেতর দুটি অ্যাম্বুলেন্সে পুরনো। মাঝেমধ্যে নষ্ট থাকে। বারবার মেরামতের পরও সচল থাকে কম। সচল যশোর পৌরসভা এলাকার বাইরে চলাচল করে না। অন্যদিকে কারোনা পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে হাসপাতালে যুক্ত হয় একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতালে

এটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স নামে পরিচিত। হাসপাতালের এ নতুন অ্যাম্বুলেন্স কোথায় রাখা হয় তা কেউ জানে না। জনসমক্ষে দেখা যায় না এ নতুন অ্যাম্বুলেন্স। ফলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়ার জন্য অভিভাবকরা নতুন অ্যাম্বুলেন্স খোঁজ করেও পায় না। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা কিংবা খুলনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী নিয়ে নিয়ে স্বজনরা।

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থাকে ডজন ডজন বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স। তাদের রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি। এই সমিতি হাসপাতালের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মচারী, হাসপাতাল পুলিশের সাথে সাখ্যতা গড়ে তুলে নির্বিঘেœ রোগী বহন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। খুলনায় যেতে ৪ হাজর টাকা, ঢাকায় যেতে ৮ হাজার, সুযোগ বুঝে ১২ হাজার টাকাও নেওয়া হয়। এসব বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্সের চালকদের সাথে সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালকদের রয়েছে অঘোষিত ব্যবসা। তারা বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কাছ থেকে মাসোহারা পায়। মাসোহারার বিনিময়ে সরকারি অ্যাম্বুুলেন্স শেডের ভেতর পড়ে থাকে।

আর বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাতায়াতের সুযোগ পায়। এতে কারো কারো প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করার সুযোগ হয়। যশোরে বিভিন্ন ফার্মেসির মালিক ও ড্রাইভার নিজেরা অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করে এভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর।

সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতাল এলাকায় ৬০ থেকে ৭০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সব সময় পড়ে থাকে। যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড ও হাসপাতালের বিভাগের সামনে সারিবদ্ধভাবে থাকে এ সকল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। এর কারণ হচ্ছে, যারা অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন তাদের বাসা বাড়ি কিংবা অন্য কোথাও অ্যাম্বুলেন্স রাখার জায়গা নেই।

হাসপাতাল ক্যাম্পাস কিংবা জনবহুল ব্যস্ততম রাস্তার পাশের জায়গা দখল করে বাড়ায় যানজট। রাস্তা ও হাসপাতালের জায়গাকে তারা গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার করে। এতে করে মানুষের যাতায়াতের চরম অসুবিধা হয়। সৃষ্টি হয় যানজটের। শুধু অ্যাম্বুলেন্সের কারণে হাসপাতাল মোড়ের যানজট লেগেই থাকে। এ অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু হাসপাতাল প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

সরকারি হাসপাতালের সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা। চৌগাছার তারনিবাস গ্রাম থেকে হাসপাতালে আসা রোগী বিলকিসের স্বজন হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, হাসপাতালে প্রতিদিন অনেক রোগী ভর্তি হয়। হাসপাতালে রোগী বাইরে নেয়ার প্রয়োজন হলেই অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়না। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা ভাড়া বেশি নেয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পেলে রোগীরা উপকৃত হয়। কিন্তু এ হাসপাতালে তা নেয়। মাত্র একটা অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এত বড় হাসপাতালে চলে না। কমপক্ষে ১০টা অ্যাম্বুলেন্স থাকলে ভালো হয়। শুধু হাবিবুর রহমান নয় বেশ কয়েকজন স্বজন একই বক্তব্য রাখেন।

বিষয়টি নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. হিমাদ্রি শেখর সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নতুন অ্যাম্বুলেন্স চলছে। রোগী পেলেই ঢাকা কিংবা খুলনায় রোগী নিয়ে যায়। তবে একটি অ্যাম্বুলেন্সে চাহিদা মিটছে না। অ্যাম্বুলেন্স বৃদ্ধি করা গেলে জনগণের দুর্ভোগ কমতো।