আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের শংকরপুরে আদালতে নির্দেশনা অমান্য করে অন্যের জমিতে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তোভোগী সালমা আক্তার রানী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারের পরামর্শে কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ভুক্তভোগী সালমা আক্তার রানীর মা সবুরজান ১৯৯৫ সালে চাঁচড়া মৌজায় ২০ শতক জমি ক্রয় করেন । ত্রিশ বছর যাবত ওই সম্পত্তি ক্রয় সূত্রে ভোগদখল করে আসছিলেন তারা। কিন্তু পাশের জমির মালিক আব্দুর রহিমের নজর পড়ে সবুরজানের জমির ওপর। রাস্তার পাশের জমি হওয়ায় ত্রিশ বছর পর জমি নিজের বলে দাবি করেন তিনি। ২০২৪ সালে জমি নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেন। কিন্তু মিথ্যে মামলা হওয়ায় আদালত থেকে সবুরজানের পক্ষে রায় দেয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আবারও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালান আব্দুর রহিম। এ সময় ইট ও বালি ফেলে জোর করে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন তিনি। এতে বাধা দিলে আব্দুর রহিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জমির মালিকানার দ্বন্দ্ব আদালত পর্যন্ত গড়ায়। জমির ওপর আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে। আদালত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জমির মালিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আব্দুর রহিম আদালতের নির্দেশনা না মেনে আবারও নির্মাণ শ্রমিক নিয়ে জমিতে প্রাচীর তোলার কাজ শুরু করেন।

স্থানীয় খবির উদ্দিন বলেন, এই জমি সবুরজান ত্রিশ বছর আগে কেনেন। সেই থেকেই এই জমি তারা চাষ করে আসছেন। আমিও ৯ বছর এই জমি সবুরজানের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছি। কিন্তু এখন আব্দুর রহিম ক্ষমতা দেখিয়ে তা দখল করতে আসছে।

এ বিষয়ে আব্দুর রহিম বলেন, আমি স্থানীয় গণ্যমান্যদের ব্যক্তিদের নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম। ওসি স্যার তাকে আমাদের সাথে বারবার বসতে বলেছেন। কিন্তু তারা বসেননি। আমার জমি তাই আমি প্রাচীর তুলছি।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন বলেন, বিবাদী যদি ১৪৪ ধারা না মানে তাহলে বাদীর উচিত আদালতকে জানানো। বিষয়টি নিয়ে থানার একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টা দেখছেন।