জলাবদ্ধতায় অনিশ্চিত বিল হরিণার ৩শ বিঘা জমির বোরো আবাদ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের হরিণা বিলের ৩শ বিঘা জমিতে এবার বোরো ধানের চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিলের সংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিল জুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েকশো চাষি মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে পানি নামতে একটু সময় লাগলেও দেরিতে হলেও চাষিরা এ বছর বোরো আবাদ করতে পারবেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিণা বিলের বেশির ভাগ অংশে কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি জমে আছে। উপরের অংশে পানি কম থাকায় পানি সেচে বোরো চাষ করা হচ্ছে। কিন্তু নিচের অংশে বেশি পানি থাকায় সেচ দিতে পারছেন না চাষিরা। ফলে বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

হরিণা বিল সংলগ্ন কাজীপুর, বলাডাঙ্গা, খরিচাডাঙ্গা ও রামনগর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে যশোর শহরের পানি এই হরিণার বিলে জমা হয়। পরবর্তীতে এই পানি বিলের মধ্যে দিয়ে খনন করা ‘জিয়া খাল’ হয়ে মুক্তেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু গেল কয়েক বছর ধরে বিলে অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক মাছের ঘের তৈরি চলছে। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বিলের জমিতে আমন ফসল বন্ধ থাকলেও অন্যান্য বছরে বোরো আবাদে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবছর বোরো আবাদের রোপনের উপযুক্ত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বিলের প্রায় ৩শ বিঘা জমির পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এসব কারনে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদী হয়ে পড়ে আছে।

ওই এলাকার বোরো চাষি ইউনুস গাজী ও শ্যামল সরকার বলেন, হরিণার বিলটি যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের সাড়াপোল, রূপদিয়া, ভাতুড়িয়া ও মাহিদিয়াসহ রামনগরের রাজারহাট পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বিলে জলাবদ্ধতার কারণে আমন আবাদের সমস্যা হয়ে আসলেও আমরা কখনও বোরো আবাদের সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি। বরং বোরো মৌসুমে বিলে বোরোর বাম্পার ফলন হয়ে আসছে।

তারা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে হরিণার অপরিকল্পিতভাবে ছোট-বড় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ঘের খনন করায় বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারণে বর্ষা মৌসুমে আসলে বিলের দীর্ঘ এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ বছর বোরো আবাদের সময়ও পানি সরানো সম্ভব হচ্ছেনা।

একই এলাকার পুলক সরকার ও মনির হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরে এ সময়ে আমাদের বোরো চাষ শেষ করে ফেললেও এখনো আমরা প্রস্তুতি নিতেই পারেনি। অথচ এখানেই আমাদের সব সহায় সম্বল রয়েছে। বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে যোগাযোগ করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে সামনে কী অবস্থা হয় তাই ভেবে উঠতে পারছিনা।

এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, বিল হরিণার ওই অংশে জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে আমাদের বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বর্ষা মৌসুমে এই বিলের পানি যাতে বিকল্প পথ দিয়ে মুক্তেশ্বরী নদীসহ পাশের খালে সরিয়ে দেয়া যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আশা করা যায় আগামী বছরের সংকট কেটে যাবে।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাছান আলী বলেন, হরিণার বিলটি মুলত বোরো আবাদের জন্য একটি উদ্বৃত্ত এলাকা। প্রতিবছরই এই বিলে বোরোর বাম্পার ফলন হয়। তবে এ বছর তুলনামূলকভাবে যশোরে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিলের একটি অংশ এখনো জলাবদ্ধ অবস্থায় আছে। আশা খুব দ্রুতই এসব পানি কমে যাবে এবং কৃষক বোরো আবাদের রোপন কাজ শুরু করতে পারবেন। তবে এই অংশে বোরো আবাদ অন্যান্য এলাকার চেয়ে একটু দেরিতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।