অনলাইনে শাহারুল ও বিপুলের অপতৎপরতা

গুজবে ভাসছে ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ

0
শাহারুল ও বিপুল

আকরামুজ্জামান ॥ ফ্যাসিবাদী গুজবে ভাসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পর পলাতক আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পক্ষে-বিপক্ষে অগণিত অপতথ্য, গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা করছে। সংঘবদ্ধ চক্ররা একের পর এক এসব অপকর্ম চালিয়ে গেলেও তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

একাধিক সূত্র থেকে জানাগেছে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে শেখ হাসিনার ও তার নেতাকর্মীদের পলায়নের পর দেশে ও দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এরমধ্যে অধিকাংশ গুজব ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড ব্যবহার করে। অনেক ফটোকার্ডের নিচে রিপোর্টের লিঙ্ক দিয়ে দিলেও পরবর্তীতে সার্চ করে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অনেকেই না বুঝে এসব ফটোকার্ড সহজেই শেয়ার করছে। এভাবে গুজব ডালপালা ছড়াচ্ছে।

ইতোমধ্যে যশোরাঞ্চলের পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি অস্তিত্বহীন নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে তাদের ফেসবুক ব্যবহার করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আরবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম ৫ আগস্টের পর থেকেই তার ‘ফকির শাহারুল, নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ফ্যাসিবাদী গুজব ছড়াচ্ছে। এই ফেসবুক পেজ তিনি একাধিকবার লাইভে এসে যশোর জেলা বিএনপি ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের নামে নানা অপপ্রচার অব্যাহত রেখে চলেছেন।

১৮ জানুয়ারি তিনি তার ফেসবুক পেজে একজন আহত লোকের ছবি দিয়ে লিখেছেন ‘আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায়-যশোরে এক ব্যাংক কর্মকর্তার পায়ের রগ কেটে দিলো বিএনপি নেতাকর্মীরা’। অথচ এসব ঘটনার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। পলাতক অবস্থায় শাহারুল ইসলাম একের পর এক অপপ্রচারের পরেও প্রশাসন তার খোঁজ পাচ্ছে না।

একই কায়দায় অপপ্রচার চালাচ্ছেন যশোর সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। তিনি তার ফেসবুক পেজে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অপপ্রচার চালাচ্ছে। পলাতক অবস্থায় বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করে সাধারণের বিভ্রান্ত করছেন।

রোববার তার ফেসবুক পেজে দুটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে দেয়ালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা স্লোগান, লিখছেন। একই সময় তারা নানা স্লোগানও দিচ্ছেন। এর আগের দিন শনিবার আরেকটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। সেখানে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণ করছে। আরেকটি পোস্টে তিনি বার্তা বিডি-২৪ ডট কমে প্রকাশিত একটি নিউজের লিঙ্ক দিয়ে সেটি শেয়ার করেছেন । ওই সংবাদের শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে ’যশোরে বিপুলের তত্বাবধানে হটাও ইউনুস-বাঁচাও দেশ, লিফলেট বিতরণ। অথচ খোঁজ নিয়ে এধরনের কোনো ঘটনার কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্রেফ গুজব ছড়িয়ে চললেও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।

এভাবেই আওয়ামী লীগের অসংখ্য পলাতক নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত ফেসবুক, ইউটিউবসহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা করলেও প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যাথা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ৫ আগস্টের পর সারাদেশে ফেসবুক ও ইউটিউবে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তার অধিকাংশই বিএনপিকে নিয়ে করা হচ্ছে। সম্প্রতি যশোরের জামায়াতে ইসলামীর লোগো দিয়ে একটি ফডোকার্ড ব্যবহার করে বিগত আন্দোলনের সময় বিএনপির লিফলেট বিতরণের সময় পুলিশের বর্বর হামলার ঘটনাকে বিএনপির বাজার দখল করার ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হয়। যদিও যশোর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএনপি ও জামায়াতকে এক সাথে দুর্বল করতে এ অপকৌশল নিয়েছে গুজবকারীরা।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন আরও বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালালেও আমরা উদ্বেগের সাথে দেখছি কোনো ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর নয়। এসব অপপ্রচারকারীরা কোথা থেকে বসে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে সে ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি রাখা উচিৎ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নের চেষ্টা করে পুলিশ অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে। তবে এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনতে হবে।

তিনি বলেন, অপরাধ দমনে আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে আসছি। প্রায় প্রতিদিনই আমরা প্রযুক্তির সহযোগিতায় অপরাধীদের আটক করছি। ফলে যারা আত্মগোপনে থেকে এসব অপকর্ম করছে তারাও পার পাবেনা।