আবারো ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ অসহায়

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারো বাড়ছে ওষুধের বাজার মূল্য। এতে করে সাধারণ গরিব রোগীরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। ওষুধ ক্রয় করার ক্ষেত্রে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা।
বিগত সরকারের আমলে সালমান এফ রহমান ওরফে দরবেশ বাবার বেক্সিমকো ফার্মার কারসাজিতে বিভিন্ন সময় বাজারে দফায় দফায় ওষুধের মূল্য বাড়ে। কোন কোন ওষুধের দাম গত ১৬ বছরে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বেক্সিমকো ফার্মার সাথে তাল মেলাতে অন্যান্য কোম্পানির মালিকরাও তাদের উৎপাদিত ওষুধের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম হতাশা দেখা দেয়। তারপরও জীবন বাচানোর স্বার্থে সাধারণ মানুষের কিনে খেতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় ওষুধ। গরিব মানুষগুলো সহায় সম্পদ বিক্রি করে ওষুধ ক্রয় করেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষের মাঝে শুরু হয়েছিল নতুন প্রত্যাশা। বাজারে ওষুধের মূল্য কমে আসবে এমন প্রত্যাশা তাদের থাকলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েক মাসে ওষুধ কোম্পানিগুলো দাম আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন কোন ওষুধ কোম্পানি তাদের ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর একে একে সব ওষুধ কোম্পানি তাদের ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি করবে বলে জানিয়েছেন ফার্মেসিগুলো।
ফার্মেসির মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোন কোন ওষুধের দাম ৫ টাকা থেকে ৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ভেতর ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ওষুধের মূল্য বেড়েছে অনেক গুণ। ইনজেকশন কিটোরোলাক ৩০ এম জি গত মাসে ছিল প্রতি পিস ১২ টাকা। বর্তমানে ৮ টাকা বৃদ্ধি করে তা ২০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। রোগীদের অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ মন্টিলুকাস ১০ এম জি আগে মূল্য ছিল প্রতি পিস ট্যাবলেট ১২ টাকা। ৫ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি করে প্রতি পিস মন্টিলুকাস ট্যাবলেট তখন বাজারে বিক্রি হচ্চে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে। অনুরূপভাবে মূল্য বৃদ্ধির তালিকায় ডমপিরডম-১০ এম জি ২ টাকা থেকে ৪ টাকা, মেট্রোনিডাজল ১০ টাকা হতে ১২ টাকা, ক্যাপসুল সেফিক্সিম ২০০ এম জি ৩০ টাকা থেকে প্রতি পিস ৪৫ টাকা ও এজিথ্রোমাইসন সিরাপ ৩০ এম এল ৪০ টাকা থেকে এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঘাতকব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সচারচর ব্যবহৃত হয় ডক্সোরুবিসিন, কার্গোপ্লাটিন, ডেসসিট্যাবিন ও ক্যাপসিটারিন। এ সব ওষুধের দাম বেড়ে গেছে। এক একটি কোম্পানি এক এক রকমের মূল্য নির্ধারণ করেছে। কোন কোন ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে দ্বিগুণ। যা ক্যান্সারে আক্রান্তদের চিকিৎসায় আর্থিক ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র জানিয়েছেন, ওষুধের মূল্য বাড়ানো হয় চিকিৎসকদের কারণে। এক একটি কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ওষুধের আইটেম বাজারে প্রচলনের জন্য চিকিৎসক পোষেন। কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের উপঢৌকন প্রদান করে। আর ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি করে কোম্পানিগুলো তাদের খরচ ওষুধের দাম বাড়িয়ে পুষিয়ে নেন।
এ ব্যাপারে কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে আলাপ করলে ওষুধ কোম্পানির বিপক্ষে যায় এমন কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।