সাড়াপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের সাড়াপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভীনের পদত্যাগের দাবিতে মানবন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবক, এলাকাবাসী। সোমবার বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের দুই ধারের দীর্ঘ লাইনে মানবন্ধন করেন তারা।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর দাস বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষাথী ও অভিভাবকদের আর্থিক বিষয় বিবেচনা করে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভিনকে বললেও উনি সেটি পাশ কাটিয়ে যান। ২০২১-২২ অর্থ বছরে সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সীমান প্রাচীরের সাথে একটি গেট নির্মাণ করেন। কিন্তু পাপিয়া পারভিন, বিদ্যালয়ের অর্থায়নে গেট নির্মাণ করা হয়েছে এমনটি দাবি করে বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। ঠিক একইভাবে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের সময়ও চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। স্কুলের আয়ের সমুদয় অর্থ তার কাছে জমা রাখতে হয়। তিনি প্রধান শিক্ষক হয়ে নিজেই হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অর্থ তছরুপ করেন। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কোন উপকরণ সামগ্রী কিনে দেন না। যা অন্যান্য শিক্ষক এমনকি শিক্ষার্থীদের পকেটের টাকায় কিনতে হয়। আবার বিভিন্ন পরীক্ষার পত্র বাকিতে ছাপিয়ে নিলেও পরবর্তীতে তিনি টাকা পরিশোধ করেন না। বিভিন্ন পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন। এবারের এস এস সি পরীক্ষার ফি ২১৭০ থেকে ২২৩০ টাকার পরিবর্তে তিনি সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৩শ টাকায় পর্যন্ত জোর পূর্বক ভাবে আদায় করে। আবার বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের প্রতিমাসের প্রাপ্ত টাকা না দিয়ে তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেন।
এন টি আর সি এ’র মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া জাহিদ হোসেন ও মুরাদ হোসেনসহ মোট পাঁচজন শিক্ষকের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা করে দাবি করেন। ভুক্তোভোগী শিক্ষক রাশেদ হাসান বলেন, পাপিয়া পারভিন নিয়োগের পর আমাকে যশোর শহরের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কোরআন শপথ করিয়ে বলেন আমি যে কথা বলবো এই কথাটি কাউকে বলা যাবে না। এই কথা বলে তিনি আমার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। দিতে অপরাগকতা প্রকাশ করাই তিনি আমাকে বলেন পাঁচটি পদ শূন্য করতে আমাকে ১৩ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। এনটি আর সি এ’র মাধ্যমে শূন্যপদে নিয়োগ পাওয়া ধর্মীয় শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষক সৃষ্ট পদে নিয়োগ দাবি করে আমার কাছ থেকে জোর পূর্বক এক লাখ বিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। আবার এনটিআরসি এর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া দুই শিক্ষক তার উৎকোচ না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। এমনকি তারা এন টি আর সি এ’র কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। তার স্বামী তোফাজ্জেল হোসেন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা হওয়ায় তিনি ধর্ম এবং ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান নিয়ে প্রতিনিয়ত কটাক্ষ করেন।
এদিকে মানবন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাববক মাসুদ রানা, বিল্লাল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, শিক্ষর্থী মাহির হাসান বলেন এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষকে আমরা এই বিদ্যালয় দেখতে চায় না। যার মধ্যে সততা নীতি নৈতিকতার বালাই নেই শিক্ষার মত একটি মহান পেশায় তার যুক্ত থাকার কোন যোগ্যতা নেই। পাপিয়া পারভীনের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এদিকে মানববন্ধনের সময় প্রধান শিক্ষক পাপিয়া পারভিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না। মুঠোফোনে অসংখ্যবার কল দেবার পর রিসিভ করে বলেন ‘আমি গাড়িতে আছি। আপনার অফিসের ঠিকানা দেন অফিসে এসে কথা বলছি।’ কিন্তু তিনি অফিসেও আসেননি।