বাঘারপাড়ায় ছুরিকাঘাতে ভাটা শ্রমিক নিহত, আটক ৩

0

বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা॥ বাঘারপাড়ায় ইটভাটার এক নারী শ্রমিককে কটূক্তির দ্বন্দ্বে আল আমিন (৩০) নামের এক পুরুষ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তিনি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বাড়ইডাঙ্গা গামের সোহরাব সরদারের ছেলে। এতে আহত হয়েছেন একজন। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নে যশোর-নড়াইল সড়কের পাশে চিন-জাপান মৈত্রী কলেজের বিপরীত পাশে সিটি ব্রিকসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত পাগল সরদারের পিতা সোরহাব সরদার ৮ জনকে আসামি করে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেছেন। মামালার এজাহারভুক্ত ৩ আসামিকে আটক করেছে পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন, বাঘারপাড়া উপজেলার দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের আবুল কালাম মোল্লার ছেলে ইকলাস মোল্লা (২৩), একই গ্রামের নিজাম খাঁর ছেলে বিল্লাল হোসেন (২০), খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সামসুল মোড়লের ছেলে বাদশা মোড়ল (২৩), বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মৌভোগ গ্রামের নুর মোহম্মাদ শেখের ছেলে আসাদ শেখ (৩২), বাঘারপাড়ার দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের জামানুর মোল্লার ছেলে ইসরাফিল মোল্লা (২২), একই গ্রামের হাবিবুর রহামানের ছেলে নাহিদ হোসেন (১৯), সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা উপজেলার খলিশাাখালী গ্রামের আরসাদের ছেলে গাফফার হোসেন (৩৫), বাগেহাটের ফকিরহাট উপজেলার মৌভোগ গ্রামের আসাদ শেখের স্ত্রী বিউটি বেগম (৩২)।
মামলার এজাহারে আহত সোরহাব সরদার উল্লেখ করেন, তিনি ও তার ছেলে নিহত আল আমিন বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামের ইটভাটা সিটি ব্রিকস-১ এ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সোমবার বিকেল পাঁচটা ১০ মিনিটের দিকে তারা ইটভাটায় কাজ করছিলেন। এ সময় ভাটাশ্রমিক আসাদ শেখের স্ত্রী ভাটাশ্রমিক বিউটি বেগমকে কে বা কারা বাজে কথা বলে। এরপর আসাদ শেখ, তার ভগ্নিপতি ইকলাস মোল্যা, বিল্লাল হোসেন, বাদশা মোড়ল, ইসরাফিল মোল্যা, নাহিদ হোসেন, গাফ্ফার হোসেন ও বিউটি বেগম ও অজ্ঞাত তিন থেকে চারজন উপজেলার জামদিয়া গ্রামের সিটি ব্রিকস-১-র পূর্ব পাশে রিয়াজের চায়ের দোকানের সামনে ধারালো চাকু, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে আসেন। তারা এ সময় ভাটাশ্রমিক আক্কাসকে গালিগালাজ করেন। তিনি তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তারা তাকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট ও ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় তিনি চিৎকার করতে থাকলে তার ছেলে নিহত আল আমিন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তারা ধারালো চাকু দিয়ে আল আমিনের বুকে ও পেটে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় ও ভাটার শ্রমিকেরা তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। আল আমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফাড করেন। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদ্মা সেতুর ওপর পৌঁঁছালে সেখানে আল আমিন মারা যান।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম বলেন, আল আমিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি একলাস মোল্যা, বিল্লাল হোসেন ও বাদশা মোড়লকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহত আল আমিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।