যশোরে মুদ্রা প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য সিআইডি জালে

0

 

শেখহাটি বাবলাতলা ডিআইজি রোডের একটি বাসায় দল বেঁধে অবস্থান করছিল ছিল চক্রটি। তাদের সবার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গামছায় জড়ানো খবরের কাগজ ও ভিমবার হাতে ধরিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়া এক প্রতারক চক্র সিআইডি জালে আটকা পড়েছে। সৌদি রিয়েল ভাঙ্গানোর নামে তারা এ প্রতারণা করে। শেখহাটি বাবলাতলা ডিআইজি রোডের একটি বাসায় দল বেঁধে অবস্থান করছিল ছিল চক্রটি। তাদের সবার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।
প্রতারণার শিকার ফজলুর রহমান আরবপুর বিমানবন্দর সড়কের বাসিন্দা। সোমবার রাতে আটক হওয়া প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলেন, গোপালগঞ্জের মোকসুদপুর উপজেলার বড় বনগ্রামের মোতালেব ফকিরের ছেলে শুকুর আলী ফকির (৩৬), ঘোনসী গ্রামের মোস্তফা শেখের ছেলে মহসীন শেখ ওরফে রিপন (৩৬), মৃত ছয়েদ সরদার ওরফে সাহেদ সরদারের ছেলে হায়দার আলী সরদার (৪৮), মহারাজপুর গ্রামের সাহেব আলী শেখের ছেলে ইছাউর রহমান (৩৬) ও কোদালিয়া গ্রামের মৃত সিরাজ মোল্লার ছেলে মুরাদ মোল্লা (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর সকালে ফজলুর রহমান (৬৪) বাজার করার উদ্দেশ্যে পালবাড়িতে গেলে সেখানে প্রতারক চক্রের সদস্য শুকুর আলীর সাথে তার পরিচয় হয়। তখন শুকুর আলী তাকে জানান, তার কাছে সৌদি ১শ’ রিয়ালের একটি নোট রয়েছে। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ওই নোটকে ভাঙাতে চান। এ সময় ফজলুর রহমান তাকে চৌরাস্তার ম্যানি এক্সচেঞ্জে গিয়ে সৌদি রিয়াল ভাঙানোর পরামর্শ দেন। এক পর্যায়ে শুকুর আলী তার কাছে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। ফজলুর রহমানের বাড়িতে নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় তিনি তাকে রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরবর্তীতে ফজলুর রহমানের ছেলে মামুন হোসাইনের সহায়তায় শুকুর আলী চৌরাস্তায় গিয়ে সৌদি ১শ’ রিয়ালের নোটটি ভাঙিয়ে ৩ হাজার ১৭০ টাকা পান। এরপর শুকুর আলী জানান, তিনি অশিক্ষিত। তার পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে আরও সৌদি ১শ’ রিয়ালের ৩শ’টি নোট রয়েছে। ভাঙিয়ে দিতে পারলে নোটপ্রতি দেড় হাজার টাকা করে দেবে। এ সময় ফজলুর রহমার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে না পেরে ফাঁদে পা দেন এবং নিজেই নোটগুলি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরদিন ৩ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে ছেলে মামুন হোসাইনকে সাথে নিয়ে তিনি শুকুর আলীর কথামতো শহরের আইটি পার্কের সামনে যান। সেখানে যাওয়ার পর ফজলুর রহমান দেখতে পান, শুকুর আলী ছাড়াও আরও ৪ জন রয়েছে। এ সময় তারা তাকে সৌদি রিয়ালের কয়েকটি নোট দেখান। এরপর গামছা দিয়ে মোড়ানো একটি বস্তু দেখিয়ে বলেন, এটা রিয়ালের বান্ডিল। পরে তারা গামছার পুটলি তার হাতে তুলে দিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে নেন এবং দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় পথে সন্দেহ হওয়ায় ফজলুর রহমান গামছার পুটলি খুলে তার ভেতর একটি ভিমবার খবরের কাগজ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনার পর ফজলুর রহমান সিআইডি অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন। তার কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেখহাটি বাবলাতলার ডিআইজি রোডের প্রফেসর আবু শাহীনের বাড়ির নিচতলা থেকে উল্লিখিত ৫ প্রতারককে আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত সৌদি ১শ’ রিয়ালের ১টি নোট এবং গামছা উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ফজলুর রহমান কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন।