নিখোঁজের তিন দিন পর প্রতিবেশীর ডোবা থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করলো মেয়ে

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় তিন দিন আগে নিখোঁজ এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার হয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের বাঘারদাড়ি গ্রামে। নিহত রাবেয়া বেগম (৪৫) ওই গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনার পর প্রতিবেশী একটি পরিবার গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চৌগাছা থানার ওসি পায়েল হোসেন স্থানীয়দের বরাতে জানান, উপজেলার বাঘারদাড়ি গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী চার সন্তানের জননী রাবেয়া বেগম (৪৮) গত রোববার সন্ধ্যায় পাশের বাড়ি বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি আসেননি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজি করে তাকে পাননি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহতের মেয়ে তানজিলা খাতুন মঙ্গলবার সকালেও মাকে খোঁজ করছিল। এ সময় প্রতিবেশী তাজুল ইসলামের বাড়ির পাশে মায়ের ব্যবহৃত একটি জুতা ও ছোট টর্চ লাইট পড়ে থাকতে দেখে। একই সাথে কোনো কিছু টেনে নেয়ার চিহ্ন মাটিতে লক্ষ্য করে। এরই সূত্র ধরে ওই বাড়ির টিউবওয়েলের পানি ফেলা গর্তে দেখতে পান মায়ের ওড়নার কিছু অংশ ভেসে আছে। এই অবস্থায় তানজিলা খাতুন গর্তে নেমে মায়ের নিথর দেহ খুঁজে পান।


এ সময় তিনি চিৎকার দিয়ে কাঁদতে থাকেন। তার কান্নকাটির শব্দে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের পর নিহতের শরীরের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে তাজুল ইসলামের পরিবার পলাতক রয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয়রা করছে তাজুল ইসলামের ছেলে তামিমকে।
নিহতের ছেলে আলামিন জানান, ৪/৫ মাস আগে পাশের বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে তামিমের সাথে আমাদের পারিবারিক ঝগড়া হয়। এ সময় তামিম গাছিদা নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে এবং মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই হত্যার সাথে তামিম ও তার পরিবারের লোকজন জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমলান। তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।