পদ্মা সেতু রুটে যশোর জংশন সংযুক্তির দাবিতে রেল অবরোধ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা এবং দর্শনা-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে দিনে দুটি করে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর দাবিতে মঙ্গলবার ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করেছে যশোরবাসী। দুপুর ১টা থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যশোর জংশনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। অবরোধে ঢাকামুখী বেনাপোল এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের বিলম্ব হয়।
অবরোধ চলাকালে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম কর্মসূচিস্থলে হাজির হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি যথাযথ স্থানে অবহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। এসময় আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। তবে দাবি মানা না হলে বৃহৎ কর্র্মসূচি গ্রহণের হুশিয়ারি দেন তারা।
চলতি মাসেই ‘পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প’ উদ্বোধন হওয়ার কথা। দেশে রেলওয়ের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই প্রকল্প ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে নড়াইলের ওপর দিয়ে যশোরকে সংযুক্ত করেছে। এই প্রকল্পের ফলে নড়াইল জেলা প্রথমবারের মতো রেলসেবা পেতে যাচ্ছে। যশোর ও খুলনার যাত্রীরা প্রায় অর্ধেক সময়ে রাজধানীতে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন।
কিন্তু প্রকল্পের মূল সংযোগস্থল যশোরে বাড়তি কোনো ট্রেন না দেওয়া, এমনকি চলাচলরত দুটি ট্রেন সুপ্রাচীন যশোর জংশনের বদলে নবনির্মিত পদ্মবিলা জংশন ব্যবহারের কারণে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে যশোরবাসী। বর্তমানে বেনাপোল এক্সপ্রেস যশোর থেকে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ভাঙ্গা হয়ে ঢাকা যাতায়াত করছে। রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়ার মানুষেরা এই এক্সপ্রেস ট্রেনটি বর্তমান রুটেই চালানোর দাবিতে ইতোমধ্যে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
অন্যদিকে, খুলনা-ঢাকা রুটের দুটি ট্রেন যশোরের নবনির্মিত পদ্মবিলা জংশন হয়ে যাতায়াত করবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে রেলযোগাযোগের ক্ষেত্রে যশোরবাসী পদ্মাসেতুর সরাসরি সুফল পাচ্ছেন না।
এমন পরিস্থিতিতে বঞ্চিত-ক্ষুব্ধ যশোরবাসী ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে। মিছিল-মিটিং, ঘেরাও-স্মারকলিপি প্রদানের পর তারা ৩ ডিসেম্বর যশোর জংশনে অবরোধের ডাক দেন। সেই অনুযায়ী এদিন দুপুরে আন্দোলনকারীরা জংশনের পশ্চিম প্রান্তে রেললাইনের ওপর সমবেত হন।
আন্দোলনকারীরা রেললাইনের ওপর সমাবেশ করতে থাকায় ঢাকামুখী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি যশোর জংশনের আউটার সিগন্যালে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান স্টেশন মাস্টার আয়নাল হোসেন। তিনি বলেন, অবরোধ প্রত্যাহারের পর প্রায় আধা ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটিকে যশোর জংশনে প্রবেশের সিগন্যাল দেওয়া হয়। বেনাপোল এক্সপ্রেসের যশোর স্টেশন থেকে ছাড়তে দেরি হওয়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসেরও খুলনায় পৌঁছাতে দেরির কথা জানান স্টেশন মাস্টার।

কর্মসূচি চলাকালে বেলা ২টার দিকে কর্মসূচিস্থলে আসেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যশোরবাসীর যৌক্তিক দাবি-দাওয়াগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার) সকালেও রেলসচিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করি, সরকার যৌক্তিক দাবির প্রতি সদয় হবেন।’
আন্দোলনের কারণে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয় এবং আন্দোলনের মাঝে যাতে কোনো কুচক্রী মহল দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নের জন্য ঢুকে না পড়ে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য সংগঠকদের প্রতি আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু’র সভাপতিত্বে অবরোধ সমাবেশে বক্তব্য দেন কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রহমান হিরু, ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সংস্কৃতিজন হারুন অর রশিদ, তসলিমুর রহমান, অধ্যক্ষ শাহীন ইকবাল, যুগ্ম সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান মিলন, প্রবীণ বামনেতা হাসিনুর রহমান, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর নান্টু, যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, যশোর আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা খন্দকার আজিজুল হক মনি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোবাশ্বের হোসেন বাবু, রেলবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মঈনুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম, শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বুলবুল, বৈষম্যবিরোধ ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক রাশেদ খান, সদস্য সচিব জেসিনা মুর্শিদ প্রাপ্তি, আন্দোলনের নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ শেফার্ড প্রমুখ। ।
এসময় বক্তারা বলেন, রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেন চালালে যশোর, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুরের মানুষ কার্যত ট্রেন সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। তারা রেলকে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ, প্রত্যেক আন্তঃনগর ট্রেনে সুলভ বগি সংযুক্ত করা, দর্শনা-খুলনা ডাবল লাইন চালু প্রভৃতি দাবি জানান।