ভবদহের পানিবন্দী মানুষের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়লো

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভবদহ অঞ্চলের পানিবন্দীদের জন্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও ঋণ প্রাপ্তির জন্যে বিশেষ সুযোগ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রক সরকারি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এসব এলাকার ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি আদায়ের সময়সীমা বৃদ্ধি ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। কমিটির নেতাদের অভিমত এর মাধ্যমে সরকার তাদের এক ধাপ দাবি মেনে নিয়েছে।
ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রক সরকারি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির যুগ্ম-পরিচালক মো. মিনহাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যশোর জেলাধীন যশোর সদর, মনিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে সেখানকার মানুষের জন্যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক ও সামাজিকভাবে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষগুলো বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে গৃহীত ঋণের কিস্তি সঠিক সময়ে পরিশোধ করতে পারছে না ও নতুন করে ঋণ গ্রহণ করতে পারছে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও বন্যায় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের নিকট থেকে ঋণের কিস্তি আদায় না করা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সঞ্চয় ফেরতের সুযোগ রাখা, দুযোর্গকালীন ঋণ সুবিধা প্রদানসহ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যে ওই প্রজ্ঞাপনে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায়ের সময়সীমা বৃদ্ধি ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের সরকারি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এ প্রসঙ্গে সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে দাবি জানিয়ে আসছিলেন সরকারের এ সিদ্ধান্তে সেটি ইতিবাচক রূপ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এটি জনগণের প্রাথমিক বিজয় বলে তিনি দাবি করেন।
ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, জলাবদ্ধ ভবদহ অঞ্চল থেকে এনজিও ও সরকারি সংস্থার ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১০ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ভবদহ জলাবদ্ধ অঞ্চল পরিদর্শন করেন। সে সময়ে আমরা উপদেষ্টার কাছে এই দাবিটি জোরালোভাবে রেখেছিলাম। তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পরদিনই ১১ নভেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন ।
ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, আমরা সরকারের তড়িৎ এ সিদ্ধান্তকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। আশা করছি পানি অপসারণে জনগণের দাবি অনুযায়ী কার্যকর অন্যান্য সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন হবে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথ বাস্তবায়ন করছেন বলে আমরা দৃঢ় আশাবাদী।