ভবদহের জলাবদ্ধতায় ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবর্ণনীয় ভোগান্তি শিক্ষার্থীদের

প্রায় একমাস যাবত পাঠদান ব্যহত

0

মজনুর রহমান,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে ভবদহ এলাকায় একেতো স্থায়ী জলাবদ্ধতা রয়েছে। তার ওপর কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার চরম অবনতি হয়েছে। ফলে ভবদহের করাল গ্রাসে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এলাকার অন্তত ৭’শ বাড়ি ঘর, পাঁচ শতাধীক মৎস্যঘের, প্রায় দুই হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষেত এবং ৭০ টি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে অবর্ননীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তার ওপর আজ থেকে দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে শিক্ষার্থীদের অবর্ননীয় দূর্ভোগের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে।

রোববার সরেজমিনে জানাযায়, কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে উপজেলার ভবদহ সংলগ্ন হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া-পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি তলিয়ে শ্রেণীকক্ষের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠেছে। ফলে রাস্তা থেকে শিক্ষার্থীদের পানি ভেঙ্গে শ্রেণীকক্ষে আসতে হচ্ছে। বেলা ১০ টায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পানিভর্তি মাঠ ভেঙ্গে শ্রেণীকক্ষে আসতে দেখা যায়।

এসময় কথা হয় ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জয়ী পাড়ে, প্রীতি বিশ্বাস, সৌমিত্র বিশ্বাস, ধনঞ্জয় মল্লিকের সাথে। তারা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ পেরিয়ে বারান্দা পর্যন্ত পানিবন্দি হয়ে পড়ায় তাদের এখন পানিভেঙ্গে শ্রেণীকক্ষে আসতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে আসতে তাদের চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তার ওপর বারান্দা পর্যন্ত পানিবন্দি হয়ে পড়ায় এখন শুধুমাত্র শ্রেণীকক্ষেই অবস্থান করতে হচ্ছে। পার্শবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই অবস্থা বিরাজ করছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অস্থায়ীভাবে বাঁশের তৈরী সাকো দিয়ে শ্রেণি কক্ষে আসছে।

পাঁচবাড়িয়া-পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়

একই চিত্র চোখে পড়ে নেহালপুর ইউনিয়নের বালিদহ পাঁচাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। পানিবন্দি মাঠ পেরিয়ে জামাকাপড় ভিজে শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষে আসতে হচ্ছে। তার পরও শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে পেরে খুশি। আবার হাটগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে পানি উঠায় ইট দিয়ে মেঝে উচু করা হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিএইচএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লখাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নেবুগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুক্তেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ, মশিয়াহাটি ডিগ্রি কলেজ, দিগঙ্গা-কুচলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজে কুলটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয়, আলিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজেকুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুলটিয়া সরকারি, হাটগাছা সুজাতপুর সরকারি, হাটগাছা মধ্যপাড়া সরকারি, সুজাতপুর দক্ষিণ সরকারি, শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ আশ্রম সেবাসংঘ, লখাইডাঙ্গা সরকারি, চান্দুয়া সরকারি,শ্রীপুর সরকারি,নেবুগাতী সরকারি, হাজিরহাট সরকারি, মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ৭০ টি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে শিক্ষক,কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের অবর্ননীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বালিদহ পাঁচাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জিত মন্ডল জানান, পানিভেঙ্গে আসতে বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বেশি দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। ফলে ম্যানেজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের মাঠে বাশের চরাট স্থাপন কার হয়েছে। পাঁচবাড়িয়া-পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার জানান, ঝুঁকির মধ্যে অতিকষ্টে শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া চলছে।

তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু মোত্তালেব আলম জানান, উপজেলার ভবদহ এলাকায় ৪০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় উদ্যোগে বাশের সাকো নির্মান করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কক্ষে আসতে পারছে। তবে অন্য গুলোতে আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকরাম হোসেন খান জানান, ২৮ টি মাধ্যমিক পর্যায়ে এবং দুইটি কলেজ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।