যশোর জুড়ে চাকুবাজদের দৌরাত্ম্য, আড়াই মাসে অর্ধশত ছুরিকাহত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে আওয়ামী ক্যাডারদের আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি চাপা থাকলেও বেড়েছে ছুরি-চাকুর ব্যবহার। গত আড়াই মাসে যশোরে অর্ধশত লোক ছুরিকাহত হয়েছেন। একের পর এক নিরীহ মানুষ ছুরিকাহত হলেও প্রশাসনের কোন তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে না।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর বিকেলে যশোর সদরের উপশহরে জনি হোসেন (২২) নামে এক যুবক ছুরিকাহত হন। পারিবারিক গোলযোগের জের ধরে এদিন বিকেলে তার ভাই রাকিব ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। জনি হোসেন উপশহর এলাকার আজগর আলীর পুত্র।
একই দিন বেলা ১১টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার পারবাজারে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে ৩ জন ছুরিকাহত হন। এরা হচ্ছেন, ঝিকরগাছা পৌরসভার পুরন্দরপুর গ্রামের আশানুর রহমান (৪০), আলমগীর হোসেন (৪২) ও আমিরুল ইসলাম (৪৭)। গত ৮ অক্টোবর রাতে যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের হানিফ মোল্যা (৭০) নিজের ছেলের হাতে ছুরিকাহত হন। একইদিন রাতে ঝিকরগাছা বাজারে ব্রিজের কাছে ছুরিকাহত হয়েছিলেন সৈকত হোসেন (১৯) নামে এক যুবক। সৈকত ঝিকরগাছার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের ফারুক হোসেনের পুত্র। ১১ অক্টোবর দিনগত রাতে সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের জাফর ব্যাপারীর পুত্র জসীম (৩০), নূর আলী ব্যাপারীর পুত্র রাশেদ (৩৫), পাগলাদহ গ্রামের মোহাজার আলী বিশ্বাসের পুত্র শহীদ (৩৩), শহীদ হোসেনের পুত্র রাকিব হোসেন (২৫), সাইদ হোসেনের পুত্র সাদিক হোসেন (১৫) ছুরিকাহত হন। ১০ অক্টোবর ছুরিকাহত হয় শহরের বেজপাড়া এলাকার গণি মোল্যার পুত্র সোহাগ মোল্যা (৩০), ঝিকরগাছার কাগমারী গ্রামের রুহুল আমিনের পুত্র আরিফুল ইসলাম (৩৫), যশোর উপশহর এলাকার ওয়াহিদুজ্জামান (২২)সহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন ঘটনায় ছুরিকাহত হয়েছেন। কয়েকটি ছিনতাই হয়েছে চাকুর ভয় দেখিয়ে।
সূত্র জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতন হওয়ার একমাস সন্ত্রাসী তৎপরতা কম ছিল। এরপর পরিস্থিতি সামলে নিয়ে সন্ত্রাসীরা আবার তৎপরতা শুরু করেছে। আগ্নেয়াস্ত্রের বদলে তাদের হাতে উঠেছে ছুরি চাকু কিংবা ধারালো অস্ত্র। তুচ্ছ সব ঘটনায় চাকু ব্যবহৃত হচ্ছে।
চাকুবাজদের বিরুদ্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় সাধারণ মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।