বিএনপি সমর্থক আবু সিদ্দিককে হত্যার অভিযোগ যশোরে ইউপি চেয়ারম্যান মিলনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ।। যশোর সদর উপজেলার বলেশ্বরপুর গ্রামের বিএনপি সমর্থক আবু সিদ্দিককে হত্যা, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগে বৃহস্পতিবার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলীমুজ্জামান মিলনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আমলী আদালতে মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন ইদু মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, আলীমুজ্জামান মিলনের ভাই সদর উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামের বাসিন্দা তারিকুজ্জামান রিপন, মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে তহিদুল, মৃত সিপাতুল্লা বিশ্বাসের ছেলে সাক্কার ও বাক্কার, মৃত জবেদ আলী সরদারের ছেলে ইমদাদুল, মৃত আরশাদ গাজীর ছেলে রবিউল গাজী, আলা সরদারের ছেলে নিছার আলী, আলী উদ্দীন সরদারের ছেলে আলী আজগর, তেজরোল গ্রামের মৃত যতীন ঘোষের ছেলে নব কুমার লব ঘোষ, জগমোহনপুর গ্রামের নজিরের ছেলে বুলু, দলেননগর গ্রামের সরোয়ারের ছেল রোকন, গহেরপুর গ্রামের হোসেন মোল্লার ছেলে ময়নুদ্দীন মোল্লা, এনায়েতপুর গ্রামের মোকছেদের ছেলে খায়রুল, বাঘারপাড়া উপজেলার কাঠুরাকান্দি গ্রামের বিষু মোল্লার ছেলে কামরুজ্জামান ও কৃষ্ণনগর গ্রামের দাউদের ছেলে এরশাদ।

আনোয়ার হোসেন ইদু মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার ভাই আবু সিদ্দিক নিরীহ প্রকৃতির ছিলেন। তিনি বিএনপির একজন সমর্থক। নিজ বাড়িতে গরুর খামার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অপরদিকে উল্লিখিত আসামিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির। আবু সিদ্দিক তাদেরকে অপরাধমূলক কর্মকান্ড করতে নিষেধ করায় তারা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বলেশ্বরপুর গ্রামে আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ঢুকে তার নাম ধরে ডাকতে থাকেন। তখন আবু সিদ্দিক বিপদ বুঝতে পেরে ঘর থেকে বেরিয়ে কৌশলে পালিয়ে বাড়ির পাশের বাগানে আত্মগোপন করেন। এরই মধ্যে আসামিরা ঘরের ভেতর ঢুকে তাকে না পেয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল এবং গোয়ালঘর থেকে ৫টি গাভি ও ২টি বাছুর লুট করে নেন। এরপর তারা গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।

পরে চলে যাওয়ার সময় আসামিরা আবু সিদ্দিককে বাগানের ভেতর লুকিয়ে থাকতে দেখে তাকে ধরার চেষ্টা করেন। তখন আবু সিদ্দিক প্রাণভয়ে দৌড়ে কাঠামারা চিত্রা নদীতে গিয়ে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু আসামি নব কুমার লব ঘোষসহ অনেকে নদীতে নেমে তাকে ধরে আনেন। এরপর তারা তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। কয়েক ঘন্টা পর রাত ৮টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তারা সিদ্দিককে গহেরপুর গ্রামের রহিমা ক্লিনিকের পাশে ফেলে রেখে যান।

খবর পেয়ে আবু সিদ্দিকের ভাই আনোয়ার হোসেন ইদুসহ অনেকেই সেখানে ছুটে যান। এ সময় অসুস্থ অবস্থায় আবু সিদ্দিক তাদেরকে জানান, আসামি তহিদুল, সাক্কার, বাক্কার, নব কুমার লব ঘোষ, ময়নুদ্দীন ময়না ও কামরুজ্জামান তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মেরে ফেলার জন্য চেতনানাশক মিশ্রিত কোমাল পানীয় স্প্রাইট জোর করে পান করিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপর আনোয়ার হোসেন ইদুসহ অন্যরা আবু সিদ্দিককে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে উপশহরস্থ খাজুরা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে পৌঁছালে তিনি মারা যান। কিন্তু আসামিদের ভয়ে ওই সময় তার লাশের ময়নাতদন্ত করানো সম্ভব হয়নি।