মসজিদের দোকান ঘরের ৩২ মাসের ভাড়া পেতে যশোর পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ (খুলনা বাসস্ট্যান্ড) দোকান ঘরের বকেয়া ভাড়া পেতে এবার নতুন পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মসজিদ কমিটি। সদ্য অপসারিত পৌর মেয়র হায়দার গণী খান পলাশ দায়িত্ব নেওয়ার পর মসজিদ কমিটির সাথে পূর্বের মেয়রের চুক্তি অনুযায়ী দোকান ঘরের ভাড়া পরিশোধ না করায় ক্ষুব্ধ মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ বকেয়া ভাড়া ফেরত পেতে নতুন প্রশাসকের দ্বারস্থ হন।
রোববার বেলা ১২ টার দিকে তারা যশোর পৌরসভায় গিয়ে এ স্মারকলিপি দেন। এসময় পৌর প্রশাসক মো. রফিকুল হাসান স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। স্মারকলিপি প্রদানকালে পৌরসভার কাউন্সিলররা মসজিদ কমিটির দাবির বিষয়টি সত্য বলে পৌর প্রশাসককে অবহিত করেন। পৌর প্রশাসক বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ আবুল কাসেম জানান, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর আমলে রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে মসজিদ সংলগ্ন মার্কেট ভেঙে ফেলতে হয়। এরপর ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের স্বার্থে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও আরএন রোডের ব্যবসায়ীদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদের জায়গায় পুনরায় দোকান ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসময় মোট ২৯ টি দোকান নির্মাণ করে প্রতিটি ঘরের ২৫শ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে নির্ধারিত ভাড়া থেকে পৌরসভা ১৫শ টাকা আর মসজিদের জন্য ১০০০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়র রেন্টু চাকলাদার মেয়র থাকাকালীন ২০২১ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ হয়ে আসলেও পরবর্তীতে হায়দার গণী খান পলাশ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার ২০২২ সালের মে মাস থেকে আজ পর্যন্ত মসজিদের জন্য নির্ধারিত কোনো টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। বরং টাকার বিষয়ে তার কাছে গেলে তিনি নানাভাবে হুমকি ধামকি দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়।
আবুল কাসেম বলেন, আমরা পতিত সরকারের আমলে কোনো জোর করতে পারেনি। সে সময় দেশে কোনো সুশাসন না থাকায় অনেকটা নিরুপায় ছিলাম। এখন ছাত্র-জনতার একটি সফল গণঅভুত্থানের পর নতুন যে অন্তর্বর্তীকালীন সররকার দায়িত্ব নিয়েছে সেক্ষেত্রে আমরা প্রত্যাশা করছি ন্যায় বিচার পাবো। এজন্য আমরা নতুন প্রশাসকের কাছে বকেয়া ভাড়ার টাকা ফেরত চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। আশা করি পৌর প্রশাসক এ বিষয়ে সৃদৃষ্টি দিবেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যােেন্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মসজিদ কমিটির সহসভাপতি কাজী শোয়েব আহমেদ, কামাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সেলিম রেজা বাপ্পী, নির্বাহী সদস্য শাহিনুর হোসেন ঠান্ডু, মোহাম্মাদ গোলশানসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাবেক পৌরসভার মেয়র হায়দার গণী খান পলাশের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি রিসিভ না করায় সম্ভব হয়নি।