এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আটক

0

লোকসমাজ ডেস্ক ও ঝিনাইদহ সংবাদদাতা॥ সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যাকান্ডে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
একটি জাতীয় পত্রিকার অনলাইন ভার্সন সূত্রে জানা যায়, ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, ধানমন্ডির ৩/এ এলাকায় আওয়ামী লীগের এক নেতার বাসার নিচ থেকে সাইদুল করিমকে আটক করা হয়। পরে তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। তবে ডিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে ঝিনাইদহ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান,লমঙ্গলবার দুপুর থেকেই মিন্টু আটকের খবর ঝিনাইদহ শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পক্ষ পক্ষ থেকে জরুরি তারবার্তা পাঠিয়ে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়। তবে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মোঃ শাহিন উদ্দীন মঙ্গলবার বিকালে জানান, অনেকের মতো তিনিও এমন গ্রেফতারের কথা শুনেছেন। কিন্তু সত্য কি মিথ্যা তা তিনি জানেন না। জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা কাজী কামাল আহম্মেদ ওরফে গ্যাস বাবু গ্রেফতারের পরই আলোচনায় উঠে আসে সাইদুল করিম মিন্টুর নাম। গ্যাস বাবুর সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা রয়েছে। তারা এক সঙ্গে চলাফেরা করতেন সব সময়। গ্যাস বাবুর মাধ্যমে আনার হত্যার মাস্টামাইন্ড শাহিনের সঙ্গে সম্পর্ক হয় মিন্টুর। এমপি আনার হত্যার পর ঘাতকরা তার ছবিও পাঠিয়েছিলেন মিন্টুর কাছে। তাছাড়া এমপি কন্যা মুমতারিণ ফেরদৌস ডরিন মিন্টুসহ ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে।
এদিকে গতকাল বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাইদুল করিম মিন্টুর আটক হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বর্ধিত সভায় সাইদুল করিম মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি নিয়ে গেছে এমন কথাও আলোচনা হয়। আর এই আলোচনার সুত্রপাত করেন ঝিনাইদহ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু জীবন কুমার বিশ^াস বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি নিয়ে গেছে এমন কথা তিনি জানতে পেরেছেন। বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপু। এ সময় আ’লীগ নেতা মাসুদ আহম্মেদ সনজু, এ্যাড আজিজুর রহমান, অশোক ধর, আসাদুজ্জামান আসাদ, জীবন কুমার বিশ্বাস, শৈলকুপার আব্দুল হাকিম, মহেশপুরের সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ, খায়রুল ইসলাম, মীর সুলতানুজ্জামান লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত ১২ মে কলকাতায় গিয়ে পরদিন নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন আনোয়ারুল আজীম। এ হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা ও নেপালে গ্রেফতার হয়েছে আরও দুজন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, সোনা চোরাচালান নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে আনোয়ারুল আজীমকে কৌশলে কলকাতায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়রের ভাই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আক্তারুজ্জামান সংসদ সদস্যকে হত্যার জন্য পাঁচ কোটি টাকায় খুনি ভাড়া করেছিলেন। হত্যাকান্ড বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা রাখেন খুলনা অঞ্চলের একসময়ের দুর্ধর্ষ চরমপন্থী নেতা শিমুল ভূঁইয়া। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই এ ঘটনায় ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিমের নাম আসে।