ঘূর্ণিঝড় রিমালে নষ্ট হয়েছে বহরবুনিয়ার মিঠাপানির উৎস

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার আগে থেকেই জোয়ারের পানি উঠতে শুরু করে নদী বেষ্টিত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়ন জুড়ে। ঝড়ের রাতে পুরো ইউনিয়ন ডুবে যায় তিন পাশের কেওড়া, মানিক ও পানগুছি নদী থেকে উঠে আসা পানিতে। নদী তীরবর্তী ঘষিয়াখালী, ফুলহাতা, বহরবুনিয়া গ্রামের পুরোটাই ডুবে যায় পানিতে। বেড়িবাঁধ না থাকা এই অঞ্চল ঝড় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ডুবেছে কয়েকবার।
বাগেরহাট শহর থেকে সড়ক পথে রামপাল উপজেলার মল্লিকের খেয়া ঘাটের অপরপাশে ঘষিয়াখালী লঞ্চঘাট। খেয়া পার হয়ে লঞ্চঘাট থেকে উপরে উঠলেই বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ঘষিয়াখালী বাজার। বাজারের রাস্তার পাশেই রয়েছে জেলা পরিষদরের বিশালাকৃতির এক পুকুর। এই পুকুরের পানি পান ও রান্নার কাজে ব্যবহার করেন স্থানীয়রা। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে পুকুরটি।
ঝড়ের এক সপ্তাহ পরে মঙ্গলবার সকালে ঘষিয়াখালী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সুপেয় পানির একমাত্র উৎস সেই পুকুরটির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একশ ফুটের বেশি পাড় ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। দক্ষিণপাড়ের মাঝখান দিয়েও প্রায় ৫০ ফুটও ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। পাড়ে থাকা কংক্রিটের পিলারও উপড়ে পড়েছে। ঝড়ের ৮দিনেও পুকুরের পাড় মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়নি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কবে নাগাদ পুকুর সংস্কার করা হবে তাও জানেন না স্থানীয়রা।
কথা হয় পুকুর পাড়ে থাকা ঘষিয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ী আজাদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ঘষিয়াখালী বাজারের ১৩১ টি দোকান ও ২ শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা সবাই এই পুকুরের পানি পান ও প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতেন। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ঘষিয়াখালী ও আশপাশ এলাকার অন্তত ৫ হাজার মানুষ এই পুকুরের পানি পান করেন। কিন্তু পুকুরের পানি লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় খুব সমস্যায় পড়েছেন তারা।
ঘষিয়াখালী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম খলিফা বলেন, ঝড়ে পুকুরটির পাড় ভেঙে যাওয়ার ৮দিন পরেও চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কেউ পুকুরটি মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়নি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক বলেন, ঝড়ের ফলে জেলার বিপুল পরিমাণ পানির উৎস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।