ঝিকরগাছার মাগুরায় বিল দখল নিয়ে বিরোধে আহত মেজবাহউরের মৃত্যু

0

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের ঝিকরগাছার মাগুরা ইউনিয়নের ডেউয়ার বিল দখলকে কেন্দ্র করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাসীন দলের দুগ্রুপের সংঘর্ষে মারাত্মক জখম মেজবাহউর রহমান(৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৯দিন পর সোমবার যশোর ২৫০শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত মেজবাহউর রহমান চাঁন্দা গ্রামের শামছুর রহমানের ছেলে। মারাত্মক আহত মেজবাহউর রহমানের বৃদ্ধ পিতা শামছুর রহমান ও ভাই ইয়াসিন আরাফাত এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। উল্লেখিত ঘটনায় নিহত মেজবাউর রহমানের ভাই ইয়াসিন আরাফাত বাদি হয়ে ৮জনকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেছিলেন সে সময়। যার নং-যার নং-১৬/৪৬, তাং-১৭/০২/২০২৪। আসামিরা হলেন, চান্দা গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে রাসেল (২৭), মৃত হযরত আলীর ছেলে ছব্বত আলী(৪০) ও মিলন (৩৪), মৃত জবেদ আলীর ছেলে মিজান (৪৮), মহিরউদ্দিনের ছেলে বাবু (৩৫), মৃত মফেজ উদ্দিনের ছেলে রফিউদ্দিন (৫৭), রফিউদ্দিনের ছেলে আল আমিন (২১) ও আব্দুল কাদেরের ছেলে হুদা (৩৫)।
ওই মামলায় এখনো পর্যন্ত ৫নং আসামি বাবু জেল হাজতে থাকলেও বাকিরা জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদি ও আসামিরা পরস্পর প্রতিবেশী। উভয়পক্ষের মধ্যে ডহর মাগুরা গ্রামের ডেউয়ার বিলের মাছের ঘের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মাছের ঘেরের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ডহর মাগুরার বিভিন্ন মানুষের সাথে বিবাদীদের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। বাদির ফুফার বাড়ি ডহর মাগুরা গ্রামে ও শাহারুল তার ফুফাত ভাই। ফলে বাদি প্রায়ই প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ফুফার বাড়ি ডহর মাগুরা যাওয়া-আসা করেন। যা আসামিরা ভালো চোখে দেখতো না। ফলে আসামিদের সাথে বাদি ইয়াসিন আরাফাত ও তার ভাই মেজবাউর রহমানের মধ্যে বাক-বিতান্ডা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাদি ইয়াসিন আরাফাত, তার পিতা শামসুর রহমান ও ভাই মেজবাউর রহমান কায়েমকোলা বাজারের স্থানীয় লাভলু মেম্বারের দোকান থেকে নগদ ১৬,০০০ টাকা বিকাশে তুলে নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় চান্দার মোড় নামক স্থানে মাহাবুরের ওষুধের দোকানের সামনে পৌঁছালে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় ৫নং আসামি বাবুর নেতৃত্বে তাদের হাতের লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে পিতাসহ তাদের দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। এ সময় মেজবাউর রহমানের পকেটে থাকা ৫২ হাজার ৩৬০টাকা ছিনিয়ে নেয় আসামিরা। পরে আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করেন। বেশ কিছুদিন চিকিৎসা শেষে তারা বাড়িতে আসেন। কিন্তু মেজবাউর রহমান আবারো অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মেজবাউর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মেজবাউর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা সব এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে মামলার বাদি ও মেজবাউর রহমান ছোটভাই ইয়াসিন আরাফাত জানিয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার আসরবাদ জানাজা শেষে চাঁন্দা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে তাকে।