মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা বেড়িবাঁধে ধস নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই হস্তান্তর !

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে হস্তান্তর করায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এলাকবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা বেড়িবাঁধে একাধিক স্থানে ফাটল এবং বাঁধের ব্লক ধসে বিলীন হচ্ছে বলেশ্বর নদীতে। ঝুকির মধ্যে রয়েছে অন্তত ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। বাঁধ রক্ষায় বর্ষার আগেই নদী শাসন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৫ সালে ২৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প (সিইআইপি) নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে বাগেরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বগী-গাবতলা পর্যন্ত ও ৩৫/৩ বাগেরহাট সদর ও রামপাল অংশে ১০২ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মাণ শুরু করে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দি ফাস্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো হেনান ওয়াটার কনজারভেন্সি’। এরমধ্যে ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা উপজেলার বগী, গাবতলা, মোরেলগঞ্জের আমতলা, ফাসিয়াতলাসহ ৭টি স্থানে ভাঙন ও বাঁধের ব্লক ধসে বিলীন হওয়ার মধ্যেই কাজ অসমাপ্ত রেখে ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেস্বর সিইআইপি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে হস্থান্তর করে। তবে ৭ টি স্থানের মধ্যে একটি স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠোকানোর কাজ শুরু করেছে। বাঁধ হস্তান্তরের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক ও জমি ঘর হারানোর ভয়। তাদের অভিযোগ বাঁধ নির্মাণের সময় মাটির বদলে বালু দেওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা।
শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, বলেশ্বর নদীর ভাঙনে ভিটা বাড়ি সবকিছু হারিয়েছি। ২০০৭ সালের সিডরে পরিবারের সদস্যদেরও হারিয়েছি। এরপরে আমাদের একমাত্র দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ। কিন্তু বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নি¤œমানের এবং নদী শাসন না করার কারণে নতুন করে বাঁধের ব্লক ধসে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
সাউথখালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন,সবকিছু ত্যাগের বিনিময়ে একটি টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি ছিল এলাকাবাসীর। কিন্তু বেড়িবাঁধ হয়েছে ঠিকই, নদী শাসন না করার ফলে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বৃষ্টি মৌসুমের আগে ভাঙন ঠেকাবার দাবি জানাচ্ছি।
শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন,বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু নির্মাণ সম্পন্ন না করে কেন্দ্রীয়ভাবে হস্তান্তর ও বাঁধে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে । পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিআইপি প্রকল্পের দূরদর্শিতার অভাবে নদী শাসন না করেই বাঁধ নির্মাণের ফলে বাঁধটি হুমকির মধ্যে রয়েছে। শরণখোলাবাসীকে বাঁচাতে খুব শীঘ্রই নদী শাসন করে বাঁধের অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান এই জনপ্রতিনিধি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হয়। ৩৫/১ ও ৩৫/৩ পোল্ডারের ১০২ কিলোমিটার বাঁধ হস্তান্তর করা হয় এইদিন। পরে সরেজমিন পরিদর্শন করে ৩৫/১ পোল্ডারের ৭টি স্থানে ২ দশমিক ৬৮ কিলোমিটারে বাঁধ অতিঝুকিপূর্ণ পাই। নদীর তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি পাস হলে কাজ বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।