ঝিনাইদহে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে চার সুদি কারবারির বিরুদ্ধে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে ঝিনাইদহের চিহ্নিত চার সুদি কারবারির বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা হয়েছে। সুদি কারবারিদের বিরুদ্ধে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করা সিরাজুল ইসলাম সুরুজের স্ত্রী সফুরা খাতুন মামলাটি করেন। মামলা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, সদর থানার হলিধানী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের আবু বক্কর মাস্টারের ছেলে ফারুক ডাক্তার, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নয় মাইল গ্রামের তরিকুল ইসলাম, হলিধানী বাজারের লুৎফর রহমানের ছেলে আনিছুর রহমান আনিস ও সোনারদাইড় গ্রামের সৈয়দ আলী মেম্বারের ছেলে মতিয়ার রহমান। সফুরা খাতুন তার এজাহারে উল্লেখ করেন, তার স্বামী সুরুজের হলিধানী বাজারে কনফেকশনারির দোকান আছে। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় উল্লিখিত আসামিদের কাছ থেকে টাকা ধার করতেন। ধারের এই টাকা পরিশোধও করে দেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন আসামিরা জোটবদ্ধ হয়ে বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে তার ছেলে সাজেদুল ইসলাম শাকিলের হাতে একটি লিগ্যাল নোটিশ ধরিয়ে দেন। তখন আমার স্বামী ও ছেলে ধারের টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করার কথা জানালে আসামিরা আমার বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে আমার স্বামী সুরুজ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে এবং গত ৮ সেপ্টেম্বর বাড়ির দুই তলার ঘরে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সফুরা খাতুনের অভিযোগ আমার স্বামীর আত্মহত্যার পেছনে আসামিদের প্রকাশ্য হাত রয়েছে। তাদের প্ররোচণায় আমার স্বামী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
আত্মহত্যার সময় সুরুজের পকেটে পাওয়া চিরকুটে উল্লেখ ছিল ‘সুদখোরদের অত্যাচারে বাঁচতে পারলাম না, আমার জায়গা-জমি বাড়ি সব বিক্রি করে দিয়েছি। একেক জনের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া তার সাত, আট ও দশগুণ পরিমাণ টাকা দিয়েও রেহাই দিলো না তারা। কেউ কেস করেছে কেউ কেউ অপমান অপদস্ত করেছে আমি আর সহ্য করতে পারছিনা তাই বিদায় নিলাম। আমার জানাজা হবে কিনা জানি না। যদি হয় তখন সব সুদখোর টাকা চাইতে এলে আমার শরীরটাকে কেটে ওদেরকে দিয়ে দিবেন। এই সুদখোরদের বিচার আল্লাহ করবে। সুদখোরদের নাম বললাম না কিন্তু তারা সবাই টাকার জন্য আসবে। তখন বুঝতে পারবেন তারা কারা, আমি ক্ষমার অযোগ্য তবু ক্ষমা করে দিবেন।’ এদিকে সুরুজ আত্মহত্যার পর থেকেই হলিধানী এলাকার চিহ্নিত সুদি কারবারিরা এলাকা ছেড়েছে বলে পুলিশ জানায়। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, আসামিদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে।