হবু বউয়ের খপ্পরে পড়ে বৃদ্ধের আড়াই লাখ টাকা খোয়া !

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে প্রতারক হবু বউয়ের খপ্পরে পড়ে আড়াই লক্ষাধিক টাকা খুঁইয়েছেন খাইরুল ইসলাম (৬০)। এ ঘটনায় মঙ্গলবার তিনি চার জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহম্মেদ অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন পাপ্পু।
অভিযুক্তরা হলেন, সদর উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের মুক্তার হোসেনের স্ত্রী চান্দিনা বেগম (৬৫), মেয়ে খাদিজা খাতুন (৩৫), জামাই হাশিমপুর গ্রামের মৃত ইসহাকের ছেলে সেতু (৪২) ও একই গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৬)। অপরদিকে ভুক্তভোগী খাইরুল ইসলামের বাড়ি চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণ সাগর গ্রামে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৮ এপ্রিল খাইরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মারা গেলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দক্ষিণ সাগর গ্রামের জাকির হোসেনের মাধ্যমে অভিযুক্ত চান্দিনা বেগমের সাথে খাইরুল ইসলামের পরিচয় হয়। চান্দিনা বেগম নিজেকে ঘটক হিসেবে পরিচয় দেন এবং মেয়ে দেখে তাকে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। গত ২০ আগস্ট যশোর শহরের ঘোপ জেল রোডে এক নারীকে দেখিয়ে তাকে সাথী খাতুন নামে খাইরুল ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন চান্দিনা বেগম। কথিত সাথী খাতুন আসলে চান্দিনা বেগমের মেয়ে এবং তার প্রকৃত নাম খাদিজা খাতুন। কিন্তু খাইরুল ইসলাম জানতেন না বিষয়টি। পরিচয় হওয়ার পর দুই জনের মধ্যে মোবাইল ফোন নম্বর বিনিময় হয় এবং খাইরুল ইসলাম ও কথিত সাথী খাতুন মাঝে মধ্যে কল দিয়ে কথা বলতেন।
এক পর্যায়ে খাইরুল ইসলাম তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই সুযোগ নিয়ে কথিত সাথী খাতুন নানা কৌশলে কয়েক দফায় খাইরুল ইসলামের কাছ থেকে ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৯০ টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা নেওয়ার পর কথিত সাথী খাতুন বিয়ে করার কথা বলে গত ৫ অক্টোবর খাইরুল ইসলামকে যশোর শহরের পালবাড়িতে আসতে বলেন। এ কথা শুনে ওইদিন খাইরুল ইসলাম তার এক সঙ্গীকে নিয়ে পালবাড়ি মোড়ে আসেন। তখন কথিত সাথী খাতুন তাকে ফোন করে জানান, তাদের বিয়ে তার মামার বাড়িতে হবে। পালবাড়িতে দুই ব্যক্তি যাচ্ছেন খাইরুল ইসলামকে কথিত সাথী খাতুনের মামারবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর অভিযুক্ত সেতু ও হাফিজুর সেখানে যান। তারা খাইরুল ইসলাম এবং তার সঙ্গীকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে মারধর করে তারা খাইরুল ইসলাম ও তার সঙ্গীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নিয়ে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে খাইরুল ইসলাম খোঁজ নিয়ে অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য জানতে পারেন এবং তাদের প্রকৃত নাম ঠিকানা সংগ্রহ করেন। অভিযুক্তরা প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় তিনি বিষয়টি মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালান। ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।