চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে যশোরে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের স্মারকলিপি পেশ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাকরি জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৪ জুলাই) সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ বলেন,শিক্ষা জাতির মেরুদ- হলেও দেশের শিক্ষক সমাজ অবহেলিত, বিভিন্নভাবে তারা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আজ তাদের চাকরির নিরাপত্তা,আর্থিক সচ্ছলতা,সামাজিক মর্যাদা নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে চাকরি হারিয়ে অনেকে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারীদের সমযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বেতন স্কেলে ও আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধার দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল কলেজে একই সিলেবাসে পড়ানো হয়। কিন্তু সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন। অথচ বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেলের২৫ শতাংশ এবং কর্মচারীদের শতকরা ৫০ শতাংশ উৎসবভাতা প্রদান করা হয়। বেসরকারি-শিক্ষক কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া বাবদ ১ হাজার টাকা,চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়। এর বাইরে রাজনীতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারছেন না। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন। আগে শিক্ষকসহ অন্যান্য পেশার সাথে জড়িতরা জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতেন। কিন্তু বর্তমানে ব্যবসায়ী ও আমলারা রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে সুদখোর,মুনাফা কারবারি,কালোবাজারি,সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষকদের মহান জাতীয় সংসদে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করলে সংসদ আরও বেশি অলংকৃত হবে।
শিক্ষক নেতারা আরও বলেন,আর্থিক সচ্ছলতা,চাকরির নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা না থাকায় অনেকে আজ এ পেশায় আসতে চান না। এ অবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষাকে বাঁচাতে হলে এখন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। এই দাবি এখন সময়ের দাবি। এই দাবি পূরণে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই। ছাত্র বেতন,সেশন চার্জ,প্রতিষ্ঠানের সম্পদ থেকে গৃহীত অর্থ,রিজার্ভ ফান্ড ও সাধারণ তহবিলের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হলে এ থেকে বেসরকারি-শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করা সম্ভব।
শিক্ষক নেতারা চাকরি জাতীয়করণ,পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা,৫০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া,জাতীয় সংসদে ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ ও মহানগর শিক্ষকদের মহানগর ভাতা প্রদানের দাবি জানান। তারা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা এবং উল্লিখিত দাবিসমূহ পূরণে দাবি জানান।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব মাহমুদের নেতৃত্বে শিক্ষক নেতারা স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান শাহীন,বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বনি,যুগ্ম-সম্পাদক জাকির হোসেন,সমাজকল্যাণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম,সদস্য নারায়ণ চন্দ্র,কামরুজ্জামান সানোয়ার,আলাউদ্দিন,নাজমুল আলম ফারুখী প্রমুখ।