শাসকের রক্ত চক্ষু বরাবরই সঠিক ইতিহাসকে সামনে আসতে দেয় না:অধ্যাপক নার্গিস বেগম

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর আলোচনায় সভায় যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন,শাসকের রক্ত চক্ষু বরাবরই সঠিক ইতিহাসকে সামনে আসতে দেয় না। কিন্তু ইতিহাস প্রত্যেকের অবদানকে স্বীকার করে। তাই বর্তমান শাসক গোষ্ঠী যতই শহীদ জিয়াউর রহমানের কালউত্তীর্ণ ইতিহাসকে মুছে ফেলার ঘৃণষড়যন্ত্র করুক না কেন কোন দিনই তাদের সেই অপচেষ্টা সফল হবে না। কারণ শহীদ জিয়ার আদর্শ দর্শন ও তার বর্ণাঢ্য ইতিহাস প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গ্রথিত আছে। জনগণের হৃদয় থেকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।  বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ছাড়ায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ দিন সকালে কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন শুরু হয়। আলোচনা সভায় অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন জাতির ত্রাণকর্তা। এই ক্ষণজন্মা পুরুষের মহান স্বাধীনতার পূর্ব এবং পরবর্তীকালের অবদান বাঙালি জাতি আমৃত্যু কৃতজ্ঞভরে স্মরণ করবে। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। ১৯৭১ সালে দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিল ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জীবনবাজি রেখে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম ভূ-খন্ড দিয়েছিলেন। ঠিক একই ভাবে যখন সদ্য স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার পথে ঠিক তখনই তিনি পুনরায় ত্রানকর্তা হিসেবে আর্বিভূত হন। সেদিন সিপাহী জনতা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিষ্কণ্টক রাখার পাশাপাশি জাতিকে ধ্বংস স্তুপের মধ্যে থেকে উত্তরণ করে একটি আত্মর্নিভরশীল জাতিতে পরিণত করেছিলেন। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামক দেশটিকে আলোকিত রূপে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি সারা বিশ্বে সততা, নির্লোভ, ন্যায় নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন। তিনি বাঙালি জাতিকে তার নিজস্ব জাতিসত্ত্বা দিয়েছিলেন। দেশ ও জাতির জন্য জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদানের ইতিহাস সকলেরই জানা। কিন্তু কি বিচিত্র এক দেশ, তার সেই অবদানকে মুছে ফেলার চক্রান্ত অব্যহত রেখেছে বর্তমান শাসক গোষ্ঠী। কিন্তু তাদের সেই অপচেষ্টা কোনদিনই সফল হবে না। জিয়াউর রহমানের সততা, নির্লোভ, নিখাদ আর্দশ ও দর্শন ধারণ করে অতীতের ন্যায় আগামীতেও আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত করবো। আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাড. নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশে বিশেষ ব্যক্তি থাকেন যারা দেশ ও জাতিকে ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে রাষ্ট্রনায়ক বনে যান । জিয়াউর রহমান বিশ্বের সেই সকল রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে একজন। তার অবদান আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও জানে । কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারা স্বীকার করে না । জিয়াউর রহমান দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান বিশ্ববাসীর কাছে চির স্মরণীয় হয়ে আছে। এর বাইরে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন জিয়াউর রহমান। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড.সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সদস্য মোহাম্মদ মুছা, আব্দুস সালাম আজাদ, মারুফুল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল।

এর আগে সকালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান করেন।